মানিকগঞ্জের সিংগাইরে প্রতিবেশীর সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনাকে পুঁজি করে ভিডিও ধারণ ও সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক (অব:) ব্যাংক কর্মকর্তা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী ওই ব্যাংক কর্মকর্তা মো: আব্দুল হাই মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী দেওয়ান মো: মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আদালতের বিচারক মো: হাবিবুর রহমান শুনানি শেষে জেলা গোয়েন্দা সংস্থাকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দেন ।
মামলায় আসামি হলেন- সিংগাইর পৌর এলাকার কাংশা মহল্লার মৃত দলিল উদ্দিন ফকিরের ছেলে হাবিবুর রহমান রাজিব (৪০) ও গোবিন্দল গ্রামের মৃত আবুল কাশেম সরকারের ছেলে মো: জসিম সরকার (৩৫)।
অন্যদিকে, বাদি আব্দুল হাই (৬৪) উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ইসলামনগর গ্রামের মৃত ইসাজুদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বলে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগে প্রকাশ, মো: আব্দুল হাইয়ের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই আসামি তাকে অবাঞ্চিত প্রশ্ন করে কিছু ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওকে পুঁজি করে গত ২ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে তারা বাদির বাড়িতে গিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা তাকে ক্ষতিসাধনের হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে বাদি আব্দুল হাই আসামি রাজিবকে ২০ হাজার টাকা দেন। পরে তারা আরো এক লাখ ৮০ হাজার টাকা তাদের সংগঠনের অন্যান্য সাংবাদিকদের দিতে হবে বলে জানিয়ে ৭ দিনের সময় বেঁধে দেন।
বাকি টাকার জন্য চাপ দিলে ভুক্তভোগী আব্দুল হাই গত ৫ জানুয়ারি সিংগাইর থানায় মামলা করতে যান। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন বলে কোর্টে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সংবাদকর্মী আসিফ হোসেনের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে অবৈধ ও অনিবন্ধিত ফেসবুক পেইজ এবং অনলাইন পোর্টাল সানরাইজ বিডি ও নাগরিক সংবাদে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট গুজব প্রচার করে মানহানি করেন রাজিব ও জসিম।
এতে গত ১৮ ডিসেম্বর আসিফ বাদি হয়ে রাজিব ও জসিমের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদালতের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) তদন্ত করছেন বলে মামলার বাদি আসিফ হোসেন জানান।
এদিকে, সদ্য বদলি হওয়া সিংগাইর থানার ওসি এজেএম তৌফিক আজম জানান, সিংগাইর উপজেলায় সংবাদকর্মীদের মধ্যে ৩ জন বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। এরা থানায় তদবির ও ভূমি অফিসে দালালি করে থাকেন। এদের মধ্যে রাজিব ও জসিম টাকা নিয়ে আমার কাছে চুরি ও মাদক মামলার আসামি ছাড়াতে তদবির করতে এলে আমি তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম। এর মধ্যে রাজিব সংবাদপত্রের নীতিমালা ও নিয়মাবলী পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করায় গত ৫ নভেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাকে দৈনিক আমার সংবাদ থেকে বহিষ্কার করে বলেও ওসি জানান।
অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান রাজিব নিজেকে জনকণ্ঠ ও আমার বার্তা পত্রিকার সিংগাইর প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে বলেন, মামলা হয়েছে শুনেছি। মামলা করলেই তো আর হলো না, সেটা তদন্তে প্রমাণ করতে হবে।
মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) ওসি মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



