রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও মসজিদের মুয়াজ্জিন মো: আলাউদ্দিনকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে নগরীর সাহেব বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাই মো: আলাউদ্দিনকে হত্যার দুইদিন হয়ে গেলো কিন্তু কোনো আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। আমি প্রশাসনকে বলব আসামি গ্রেফতারে কোনো ধরনের গড়িমসি বরদাশত করা হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজ আমাদের সমাজে হত্যার বিচার করার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত আইন চালু নেই। তাই হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। যদি আল্লাহর আইন চালু হয়, সমাজ থেকে হত্যা, যিনা, ব্যাভিচার, দুর্নীতি, ঘুষ নিমিষেই শেষ হয়ে যাবে।’
মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেয়ার পরও বিএনপি বাস্তবে খুন ও সহিংসতার রাজনীতি শুরু করেছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গন ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু দুষ্কৃতিকারী এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময় থেকে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে এ ধরনের দুঃখজনক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।‘
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আইনের শাসন প্রয়োগে জোর দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শহীদ আলাউদ্দিন ভাইয়ের খুনিদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির মহানগর নায়েবে আমির অধ্যাপক ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী জেলা সেক্রেটারি গোলাম মুর্তজা, মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, ব্যবসা কল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক সারওয়ার জাহান প্রিন্স, অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সুইট, যুব বিভাগের সেক্রেটারি সালাহউদ্দিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় শনিবার (৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মো: আলাউদ্দিনের (৫৫) ওপর হামলা চালানো হয়। বিএনপির স্থানীয় নেতা মো: ওমর ও রাইসুলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে এবং পায়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে বলে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।



