চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিলে নুরুল আমিন

জুলাই গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো গড়িমসি চলবে না

জুলাইয়ের গণহত্যা, খুন, গুমসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরী ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিলে নুরুল আমিন
চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিলে নুরুল আমিন |নয়া দিগন্ত

জুলাইয়ের গণহত্যা, খুন, গুমসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরী ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে গণমিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউ মার্কেট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও ১১ দলীয় চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক মুহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিসের মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোস্তফা কামাল, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেদ ইকবাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি সৈয়দ গিয়াসুদ্দিন আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা নুর মোহাম্মদ কিবরিয়া, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদুওয়ানুল ওয়াহেদ।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ নুরুল আমিন বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা, খুন, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে জনগণের রায় ও গণভোটের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের জনগণ ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে কোনো টেকসই রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব নয়। সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের ন্যায্য দাবির পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।’

বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের গণহত্যা, খুন, গুম ও সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাঁরা অবিলম্বে এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

গণমিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’, ‘এগিয়ে চলো, ভয় কিসের—সনদ হবে বাস্তবায়ন মোদের’, ‘শহীদের রক্তে রঞ্জিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’—সহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

এ সময় তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণহত্যা, খুন ও গুমের বিচার এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে গণমিছিলটি নগরীতে ব্যাপক জনসমাগমের সৃষ্টি করে।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমির মাওলানা মুবিনুল হক, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি আবু সাঈদ, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন ওপেল, নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা আবু তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা জাহেদুল হাসান, নগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, আমীর হোসাইন, ফারুকে আজম, আহমদ খালেদুল আনোয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।