রাঙ্গামাটির বিভিন্ন বাজারে খুচরা টাকার তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এছাড়া ১০০, ৫০, ২০ ও ১০ টাকার পুরাতন, ময়লা ও ছেঁড়া নোটে বাজার সয়লাব। ফলে প্রতিদিনের লেনদেনে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা
সরেজমিনে দেখা যায়, রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি, বনরূপা, কলেজ গেট, ভেদভেদী ও আসামবস্তি বাজারের মুদি দোকান, কাঁচা তরকারি ও মাছ-মাংসের দোকানে খুচরা টাকার তীব্র সঙ্কট চলছে। এসব জায়গায় প্রতিদিনের কেনাবেচায় ছোট নোটের প্রয়োজন বেশি। বাজারে খুচরা টাকার ১০০, ৫০, ২০ ও ১০ টাকার যেসব নোট পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর বিশির ভাগই পুরাতন, ময়লাযুক্ত ও ছেঁড়া। এসব নোট নিতে বিক্রেতারা প্রায় সময় অপারগতা প্রকাশ করছেন। এতে ক্রেতাদের বিপাকে পড়তে দেখা যায়।
অন্যদিকে ১, ২ ও ৫ টাকার কয়েন বাজারে থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। বড় মার্কেট ও শপিং মলে বড় নোট বা ক্যাশলেস পেমেন্টে কেনাকাটা করা গেলেও, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সময় ছোট নোটের অভাব দেখা দিচ্ছে।
রাঙ্গামাটি শহরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এ যানবাহনের ভাড়া পরিশোধে ছোট নোট ও কয়েন অপরিহার্য। কিন্তু পর্যাপ্ত খুচরা টাকা না থাকায় যাত্রী ও চালকদের প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে ১০০, ৫০, ২০, ১০ ও ৫ টাকার নোট সরবরাহ করছে না। ব্যাংক থেকে বেশিরভাগ সময় গ্রাহকদেরকে ৫০০ ও এক হাজার টাকার নোট দেয়া হচ্ছে। শহরের এটিএম বুথগুলোতেও একই অবস্থা। সেখানে শুধু বড় নোটই পাওয়া যায়। ফলে ছোট নোটের সঙ্কট দিন দিন প্রকট হচ্ছে।
প্রতি বুধবার ও শনিবার সাপ্তাহিক বাজারে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে রাঙ্গামাটি শহরে নিয়ে আসেন। এসব পণ্যের দাম সাধারণত কম হয়। কিন্তু খুচরা টাকার অভাবে ক্রেতারা সঠিক মূল্য পরিশোধ করতে পারেন না। আবার বিক্রেতারা পুরনো, ছেঁড়া ও ময়লাযুক্ত নোট নিতে চান না। এতে ক্রেতা-বিক্রেতারা উভয়ই সমস্যায় পড়ছেন।
শুধু বাজার নয়; সেলুন, ফার্মেসি, মোবাইল রিচার্জ, হোটেল, টি-স্টল, স্ট্রিট ফুড, কনফেকশনারি ও মুদি দোকানসহ প্রায় সব খাতে খুচরা টাকার সঙ্কটে ভুগছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
স্থানীয়রা জানান, ব্যাংক থেকে ছোট নোটের সরবরাহ বাড়াতে হবে। নিয়মিত বাজারে নতুন নোট ছাড়তে হবে। একই সাথে পুরনো, ছেঁড়া ও ময়লাযুক্ত নোট দ্রুত পরিবর্তনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া বাজারভিত্তিক খুচরা টাকা সরবরাহ কেন্দ্র চালু করা হলে এ সঙ্কট অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা।



