পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কুলাউড়ার গনকিয়া গ্রামে এক নিরীহ পরিবারের ৩০ শতাংশ জমির রোপিত বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা। এসময় বাধা দিলে কেরামত আলীর স্ত্রী ও কন্যাদের উপর হামলা চালায়। এসময় দৌঁড়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে প্রাণে রক্ষা পায় তারা। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কুলাউড়া থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) হাবিবুল ইসলাম শুক্রবার বিকেলে জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা পেয়েছেন। তবে অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি শক্তভাবে দেখছে।
কুলাউড়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মোল্লা জানান, গাছ কর্তনকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
থানায় দাখিল করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার পৃত্তিমপাশা ইউনিয়নের গনকিয়া গ্রামের কেরামত আলী ২০২৪ সালে তিনি তার বসত ঘরের পার্শ্ববর্তী ৩০ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন। জমি ক্রয় করে মাটি ভরাট করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেন। কিন্তু প্রতিবেশী মরহুম আব্দুল আলীর দুই ছেলে নাজমুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় দা (বটি) দিয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জোরপূর্বক ফসলি ১২০টি ও ২ শ’ টি কলাগাছ কেটে ফেলে।
এসময় কেরামত আলীর স্ত্রী জমিরুন বেগম ও মেয়ে সামসিয়া বেগম বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জমিরুন ও সামছিয়া বেগমকে হত্যার চেষ্টা চালায়। প্রাণ রক্ষার্থে তারা দৌঁড়ে বসত ঘরে দরজা তালাবদ্ধ করে রক্ষা পান।
পরে কুলাউড়া থানায় এসে নাজমুল ইসলাম(২২) ও নজরুল ইসলাম(২৪), সাকিব আলী(২০) ও ওয়ারিশ আলী(২৫)সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন কেরামত আলী।
সরেজমিনে গেলে এরাকার তালেব আলী ও হারুন মিয়া জানান, ৩০ শতাংশ জায়গার পান গাছ, কলাগাছ, সেগুন গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তাদের ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কেরামত আলী জানান, সন্ত্রাসীরা ইতিপূর্বে ছোট ভাইকে হামলা চালিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মোল্লা জানান, গাছ কর্তনকারী ব্যক্তিদেরকে গ্রেফতার করার জন্য একজন অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



