বর্ষণমুখর সিলেটে শেষ মুহূর্তে পশুর হাটে বেচাকেনার ধুম

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা। আজ বুধবার চাঁদরাত পর্যন্ত চলবে পশু বেচাকেনা। শহরে পশু রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেকেই শেষ দিনে কোরবানির পশু কিনতে হাটে ভিড় করছেন। ফলে টানা বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও শেষ মুহূর্তে সিলেটের পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet

টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত সিলেটের জনজীবন। গত ৭২ ঘণ্টায় জেলায় প্রায় আড়াইশ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কখনো ভারী, কখনো অতি ভারী বর্ষণ আর দিনভর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যেও জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। ঈদের আগমুহূর্তে শেষ সময়ে পশু কেনাবেচায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা। আজ বুধবার চাঁদরাত পর্যন্ত চলবে পশু বেচাকেনা। শহরে পশু রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেকেই শেষ দিনে কোরবানির পশু কিনতে হাটে ভিড় করছেন। ফলে টানা বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও শেষ মুহূর্তে সিলেটের পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরের কাজীরবাজার, বিভিন্ন অস্থায়ী পশুর হাট এবং জৈন্তাপুরের চিকনাগুল ও হরিপুর পশুর হাটে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শেষ সময়ে এসে অধিকাংশ ক্রেতাই পশু কিনতে হাটে আসেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের কাজীরবাজার পশুর হাটে পা ফেলারও জায়গা নেই। নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারা গরু দেখে দরদাম করছেন।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, এবার বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে গরুর দাম তুলনামূলক বেশি। ছোট আকারের গরুর দামও ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার নিচে নয়।

মাগুরা থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আকাশ মিয়া জানান, তিনি ১৫টি গরু এনেছেন। এর মধ্যে আটটি বিক্রি হয়েছে। তার সবচেয়ে বড়, ৩৫ মণ ওজনের গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। তবে ৯ লাখ টাকা পেলেই বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।

জৈন্তাপুরের চিকনাগুল পশুর হাটেও ছিল ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়। সেখানে মাঝারি আকারের গরুর আধিক্য দেখা গেছে। খামারি আবদুল মুঈদ চৌধুরী বলেন, তিনি ৩০টি গরু হাটে তুলেছেন, যার মধ্যে ১৮টি ইতোমধ্যে সীমিত লাভে বিক্রি হয়েছে।

নগরের টিলাগড় এলাকা থেকে আসা ক্রেতা হেলন মিয়া বলেন, “ভেবেছিলাম এখানে দাম কিছুটা কম হবে। কিন্তু এসে দেখি নগরের হাটগুলোর মতোই দাম।”

নগরের সবচেয়ে বড় পশুর হাট কাজীরবাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি জাতের ছোট-বড় বিপুলসংখ্যক গরু তুলেছেন খামারিরা। পাশাপাশি ভারতীয় গরুও দেখা গেছে বাজারে। ক্রেতারা হাট ঘুরে পশু দেখছেন এবং দরদাম করছেন।

ফেইথ এগ্রো ফার্মের কর্ণধার মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, “বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। ৪০টি গরু এনেছিলাম, এর মধ্যে ৩৫টি ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে।”

কুড়িগ্রামের খামারি কুদ্দুস মিয়া বলেন, গরু লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তারপরও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তিনি ১০টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন।

কাজীরবাজারে গরু কিনতে আসা ব্যবসায়ী হোসাইন আহমদ বলেন, “বাজারে গরুর সরবরাহ ভালো। তবে দেশি গরুর দাম তুলনামূলক বেশি চাওয়া হচ্ছে। সবাই সাশ্রয়ী দামে কিনতে চায়।”

এদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর রয়েছে। র‌্যাব-৯-এর অধিনায়ক মো. তাজমিনুর রহমান চৌধুরী জানান, সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৪৫টি অনুমোদিত পশুর হাটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।