ইউরোপের দেশ ইতালিতে কৃষি ভিসায় পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে দালালের বাড়ি ঘেরাও করেছে শতাধিক ভুক্তভোগী।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ পাহাড়িয়াবহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিক্ষুদ্ধরা বিক্ষোভ শুরু করে টাকা ফেরত চান। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
অভিযুক্তরা হলেন জলঢুপ পাহাড়িয়াবহর এলাকার সফাত আলীর ছেলে ইতালিপ্রবাসী কাউসার হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন।
সরেজমিনে শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক ভুক্তভোগী বাড়ি ঘিরে রেখেছেন বাড়ির ভিতরে দরজা বন্ধ করে অভিযুক্তদের বাবা ও বাড়ির নারীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে মধ্যরাতে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিক্ষুদ্ধ ভুক্তভোগী যুবকরা জানান, অভিযুক্ত কাউসার হোসেন ইতালিতে কৃষি ভিসায় এলাকার অনেক মানুষকে পাঠান। এ খবরে তার কাছে সরল বিশ্বাসে পরের সিজনে যাওয়ার জন্য ১৪-১৫ লাখ টাকা করে শ’ খানেক মানুষ তাদের পাসপোর্ট জমা করেন তিন-চার বছর আগে। বিদেশ থেকে কাউসার ভিসার ব্যাপারে সব করলেও দেশে তার ভাই দেলোয়ার হোসেন মানুষের সাথে চুক্তিতে যান। চুক্তির মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করেন। এভাবে দুই-তিন বছর কেটে গেলে টাকা ফেরত না দিয়ে দুই ভাই লাপাত্তা হয়ে যান। কোনোভাবেই তাদের সাথে যোগাযোগ না করতে পেরে ভুক্তভোগীরা একত্রিত হয়ে বাড়ি ঘেরাও করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লাউতা ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, আগামী সোমবার দুপুরে ইউএনও কার্যালয়ে আদম ব্যবসায়ীদের বাবা ও ভুক্তভোগীরা সমঝোতা বৈঠকে বসবেন। সেখান থেকে পাওনা টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
দেলোয়ার-কাউসারের বাবা সফাত আলী ছেলেদের টাকার জিম্মা নিয়ে জানান, ইতালি দূতাবাস বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেয়ায় তার ছেলেরা বিপাকে পড়েছে। তারা ইতালির নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের টাকা অগ্রীম প্রদান করায় সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধানে যে সিদ্ধান্ত আসবে তা তিনি বা তার পরিবার মেনে নেবেন।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওমর ফারুক বলেন, ‘পাওনা টাকার জন্য ক্ষুদ্ধ লোকদের শান্ত করে সমঝোতা বৈঠকের জন্য রাজি করানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’



