বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির পরে নিখোঁজ তিন জেলের মধ্যে আল-আমিন মাঝি নামে একজনকে ৩৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কালাম পাইকার ও শহীদ মাঝি নামে দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ দুই জেলে ট্রলারের সাথে ভাসমান অবস্থায় রয়েছেন এবং জীবিত আছেন বলে দাবি করেছেন উদ্ধার হওয়া আল-আমিন মাঝি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর সংলগ্ন নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় চরফ্যাশনের জেলেরা আল-আমিন মাঝিকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান।
উদ্ধার জেলে আল-আমিন বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার বাসিন্দা।
আল-আমিন মাঝি জানান, আমরা তিনজন ডুবন্ত ট্রলারের উপর ধরে ভেসেছিলাম। টানা তিন দিন ট্রলার ধরে ভেসে থাকার পর দূরে একটি ডুবচর দেখতে পেয়ে সেটিকে তীর মনে করে সাঁতরে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সেখানে কোনো স্থলভাগ না পেয়ে অন্য দু’জন আবার সাঁতরে ট্রলারে ফিরে যায় এবং ট্রলার ধরেই ভাসতে থাকে। আমি আর ট্রলারে ফিরে যেতে পারিনি। আমি ডুবচরের কাছে আটকে ছিলাম। পরে ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচরের একটি ট্রলারে থাকা জেলেরা আমাকে উদ্ধার করে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার ফকিরহাট থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে ১৮ জন জেলেসহ দু’টি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।
দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনায় আল-আমিন মাঝিসহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে বরগুনার সোনাকাটা ইউনিয়নের কালাম পাইকার ও শহীদ নামের দুই জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া আল-আমিন যে সম্ভাব্য অবস্থানের (লোকেশন) কথা জানিয়েছেন, সেখানে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হলে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



