মিরসরাইয়ে ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি মানুষ

‘টানা বৃষ্টিতে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে জলাবদ্ধার খবর পেয়েছি। আমাদের কাছে শুকনো খাবার রয়েছে। তালিকা করে পৌঁছে দেয়া হবে।’

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Location :

Mirsharai
টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকা
টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকা |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চার দিনের টানা ভারী বর্ষণে আবারো নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষরা।

বুধবার (৯ জুলাই) টানা বৃষ্টিতে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ফেনাপুনি, দুয়ারু, পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড, মায়ানী ইউনিয়নের পূর্ব মায়ানী গ্রামের পাঁচ শতাধিক বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত রোববার থেকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। খৈয়াছরা খাল সংস্কার বন্ধ থাকার কারণে পানিবন্দি হয়েছে ওই এলাকার শতাধিক পরিবার।

খৈয়াছরা এলাকার বাসিন্দা সরোয়ার হোসেন জনি ও মো: জাহেদ জানান, ‘পূর্ব খৈয়াছড়া ভেন্ডারপাড়া গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। এবার অপরিকল্পিত খাল খননের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখনো খাল খনন অসমাপ্ত রয়েছে। কিছুদিন আগের ভারী বর্ষণে নতুন বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছে ফসলি জমিতে। এতে খেটে খাওয়া মানুষরা বিপাকে পড়েছে। বসত ভিটা প্লাবিত হয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। খালের সংস্কার কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন না করলে আমার গ্রামের ফসলি জমি এবং বসতভিটায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

মিরসরাই পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলে আমাদের বাড়িতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বসবাস করা দুষ্কর হয়ে যায়। মূলত পানি নিষ্কাশন পথ না থাকায় এমনটা হচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারো ফেনাপুনি গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ওই গ্রামের প্রায় পরিবারের রান্নাঘরে পানি ঢুকে গেছে। ফেনাপুনি কমিউনিটি ক্লিনিকেও পানি ঢুকে গেছে বলে জানান তিনি।’

এছাড়া টানা বৃষ্টিতে দিনমজুর, কৃষক, শ্রমজীবী, রিকশাচালক ও সিএনজিচালকরা আয় রোজগার না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে। টানা চার দিন বৃষ্টিতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ভ্যান-রিকশাচালক, হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। বৃষ্টিতে কাজ না থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের। দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় পড়ুয়া পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেই সাথে বৃষ্টিতে অফিসগামী, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষকেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

রিকশাচালক আবুল কালাম জানু বলেন, ‘চার দিনের টানা ভারী বৃষ্টির কারণে আয় রুজি কমে গেছে। বৃষ্টিতে যাত্রীরা ঘরবন্দি হয়ে যাওয়ায় আমরা বিপদে পড়েছি। পেটের দায়ে এই ভারী বর্ষণেও বেরিয়ে পড়েছি। অন্য দিন এই সময়ে পাঁচ থেকে ছয় শ’ টাকা আয় করলেও আজ এখনও ২০০ টাকা আয় করতে পারিনি।’

আবুতোরাব বাজারের ভ্যানচালক মো: ইসমাইল বলেন, ‘টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে তিন দিন ধরে ঘরবন্দি ছিলাম। আজ চাল শেষ হয়ে গেছে। তাই বেরিয়ে পড়েছি। কিন্তু ভারী বৃষ্টি হওয়ায় কোনো ভাড়া মিলছে না। আজ আয় না হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হবে।’

এদিকে আবুতোরাব এলাকায় আবুতোরাব-গোভনীয়া খালের পানিতে ভেসে গেছে আবুতোরাব-বড়তাকিয়া সড়ক। প্লাবিত হয়েছে সরকারটোলা এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িঘর।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘টানা চার দিনের বৃষ্টিতে আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছি। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তালিকা করার কাজ চলছে।’

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে জলাবদ্ধার খবর পেয়েছি। আমাদের কাছে শুকনো খাবার রয়েছে। তালিকা করে পৌঁছে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আজ দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।’