ফেনী অফিস
বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম বলেছেন, ‘ফেনী থেকেই মাদক নির্মূল করতে হবে। এখানে মাদকের শেষ শিকড় পর্যন্ত উপড়ে ফেলতে হবে। শুধু চুনোপুঁটি নয়, যারা মাদকসেবী, যারা মাদক কারবারি, যারা মাদকের ডিলার, মাদকের গডফাদার, মাদকের অর্থদাতা, মাদকের বিনিয়োগকারী—তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় আমরা মাদকবিরোধী সমাবেশ ও র্যালি করতেছি। এর মধ্যে ফেনী আমার কাছে প্রায়োরিটি।’
তিনি বলেন, ‘এখানে স্কুল, কলেজের শিক্ষকরা আছেন, আপনারা এই মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করবেন। এখানে সাংবাদিক ভাইয়েরা আছেন, আপনারা আমাদের এই কাজগুলোকে গুরুত্ব সহকারে প্রচার করবেন; যাতে সমাজের সবাইকে এটার সাথে কানেক্ট করা যায়। এখানে আইনজীবীরা রয়েছেন, আপনারা অন্তত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজকে বাঁচানোর জন্য মাদকের কারবারি, গডফাদার ও অর্থদাতাদের পক্ষে যেন না দাঁড়ান। এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আলেমরা রয়েছেন, তারা যেন ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে তুলে ধরেন। এখানে রাজনীতিবিদরা রয়েছেন।’
‘আপনারা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার। আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে আমাদের মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই সম্ভব। আপনারা যে যে অবস্থানে আছেন, সেখান থেকে চেষ্টা করলে মাদক নির্মূল অবশ্যই সম্ভব। আমরা যেন মাদক নির্মূল করে আদর্শ সমাজ এবং আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যেতে পারি।’
তিনি বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে শহরের পুলিশ লাইনসে মাদকবিরোধী মতবিনিময় সভা ও শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন সেন্টারে মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মাদকবিরোধী সমাবেশে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম, আমাদের এই ছাত্র-ছাত্রী যারা আছে, আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব যারা, তাদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। অন্যদের, সহপাঠীদের সচেতন করতে হবে, নিজেকে সচেতন হতে হবে। নিজে মাদক গ্রহণ করব না, অন্যকে গ্রহণ করতে দেব না। আমাদের প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীকে মাদকের বিরুদ্ধে একেকজন দূত হতে হবে। আমরা আমাদের সন্তানদের, এই কোমলমতি শিশুদের অন্ধকার জগতে মিশিয়ে দিতে চাই না।’
পুলিশ লাইনসে মাদকবিরোধী সমাবেশে জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার সভাপতিত্ব করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মু. সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক। আলোচনায় অংশ নেন ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ এনামুল হক খন্দকার, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, স্টারলাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সামছুল আলম চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা একরামুল হক ভূঞা, জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সমীর কর, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক আবু তাহের ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন প্রমুখ।
শুরুতে জেলার মাদক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: আবদুল হামিদ। মতবিনিময় শেষে পুলিশ লাইনস ফটকে ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম বেলুন উড়িয়ে মাদকবিরোধী র্যালি উদ্বোধন করেন। র্যালিতে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।



