তাড়াশে দাম না পেয়ে চামড়া ফেলে গেছেন বিক্রেতারা

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে এবারো ধস

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোকামে চাহিদা না থাকায় তারাও পর্যাপ্ত পরিমাণ চামড়া কিনতে সাহস পাচ্ছেন না।

লুৎফর রহমান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)

Location :

Sirajgonj
বিক্রি করতে না পেরে অনেক চামড়া ফেলে দেয়া হয়
বিক্রি করতে না পেরে অনেক চামড়া ফেলে দেয়া হয় |নয়া দিগন্ত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে এবারো ধস নেমেছে। অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে রয়েছে গরু ও ছাগলের চামড়া। দাম না পেয়ে স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষার্থীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মূল্যের একেকটি গরুর চামড়া দুপুরে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও সন্ধ্যায় ক্রেতা না পাওয়ায় অনেককেই ঈদগাঁ মাঠে চামড়া ফেলে রেখে চলে যেতে দেখা গেছে।

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোকামে চাহিদা না থাকায় তারাও পর্যাপ্ত পরিমাণ চামড়া কিনতে সাহস পাচ্ছেন না।

চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকই মাদরাসায় চামড়া দান করছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত লবণ না থাকায় এবং চামড়া সংরক্ষণে তাদের তেমন অভিজ্ঞতা না থাকায় তারাও বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন। অগত্যা তারা লবণ সংগ্রহ করে চামড়া সংরক্ষণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোরবানির পর তাড়াশ কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। প্রথমে কিছু মৌসুমি ক্রেতা পাওয়া গেলেও বিকেলে দিকে গ্রাম থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ চামড়া আসতে থাকলে চরম দরপতন ঘটে। এর পর ক্রেতাশূন্য হয়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ চামড়া অবিক্রীত থেকে যায়।

রাত ৯টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, গরুর ও ছাগলের চামড়া স্তুপাকারে পড়ে রয়েছে।

চামড়া ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বহুমাত্রিক সংকটের কারণে মোকামে চামড়ার তেমন চাহিদা না থাকায় আমরা পর্যাপ্ত চামড়া কিনতে সাহস পাচ্ছি না। তার মতো অনেক বড় ব্যবসায়ীও একই সিদ্ধান্ত নেয়ায় চামড়ার বাজারে প্রভাব পড়ছে। ক্রেতারা কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে চামড়া ফেলে চলে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, তারা কয়েকজন মিলে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার একটি ষাঁড় গরু কোরবানি দিয়েছেন। তার চামড়া বিক্রি করতে এসে দেখে ক্রেতাই নেই। নিরুপায় হয়ে স্থানীয় মাদরাসায় দান করেছেন।

স্থানীয় দারুল উলুম কওমিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা রমজান আলী বলেন, ‘এবার পর্যাপ্ত সংখ্যক চামড়া অনুদান হিসেবে পেয়েছি। প্রতিবছর সংগৃহীত চামড়া সাথে সাথে বিক্রি করে দেয়া হয়। কিন্তু এ বছর ক্রেতা না পাওয়ায় লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণের চেষ্টা করছি। তবে এ বিষয়ে আমাদের তেমন অভিজ্ঞতা না থাকায় বিপাকে পড়েছি।’

চামড়ার বাজারে এমন ধস নামায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তারা সিন্ডিকেট চক্রকে এ অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী করেছেন।

তাড়াশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মো: আবদুল মাজিদ বলেন, ‘ঈদের তিন আগে উপজেলার মাদরাসাগুলোতে লবণ বিতরণসহ চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আশা করছি তারা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবেন।’