পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসটির রেজিস্ট্রেশন স্থগিত, মালিককে তলব

এ চিঠিতে বাসটির মালিককে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

Location :

Rajbari
নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় বাসটি
নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় বাসটি |নয়া দিগন্ত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটির রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেলের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ অহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ চিঠিতে বাসটির মালিককে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসাথে বাসের রুট পারমিট, ফিটনেস সনদ ও চালকের লাইসেন্সসহ মূল নথিপত্র তলব করা হয়েছে।

অন্যদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিসি পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বাসডুবির ঘটনায় উদ্ধার অভিযানের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ডুবুরিদল দিনভর স্পিডবোট ও ট্রলার নিয়ে নদীর প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালালেও নতুন কোনো লাশের সন্ধান পায়নি। নিখোঁজ একজনের সন্ধানে আজ শনিবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।

উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ও ১০ জন ডুবুরিসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গত ২৫ মার্চ বিকেলে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ৬০ ফুট গভীরে ডুবে যাওয়া বাসটি ওই রাতেই উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় টেনে তোলা হয়। এ পর্যন্ত মোট ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে আটজন পুরুষ, ১১ জন নারী ও সাত শিশু। নিহতদের মধ্যে চালক আরমানসহ ১৮ জনই রাজবাড়ীর বাসিন্দা। অন্যরা কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, দিনাজপুর, গোপালগঞ্জ ও ঢাকার বাসিন্দা। জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সব লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে দূরপাল্লার বাসের যাত্রী চেকিং পয়েন্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে গত ২৫ মার্চ বিকেলে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রী নিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহন দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটের ফেরিতে উঠার সময় ব্রেক ফেল করে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় ওই বাসে ৪০ জন যাত্রী ছিল। এর মধ্যে ১২-১৩ জন যাত্রী কৌশলে বের হয়ে সাঁতরিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান সোহেল রানা জানান, বালিয়াকান্দির মুক্তা নামে এক নারী তার ভাই রিপনের নিখোঁজের দাবি করায় শুক্রবার তল্লাশি চালানো হয়। রিপন গত ২৫ মার্চ ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে বাসে উঠেছিলেন বলে পরিবারের দাবি।