সাভারে বিনোদন পার্কগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

অবরুদ্ধ পরিবেশ থেকে নন্দন পার্কে খোলামেলা জায়গায় খুব ভাল লাগছে। শহুরে জীবন থেকে খানিকটা রিলাক্স।

আমান উল্লাহ পাটওয়ারী, সাভার (ঢাকা)

Location :

Savar
জাতীয় স্মৃতিসৌধ, (ডানে) থিম পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডম
জাতীয় স্মৃতিসৌধ, (ডানে) থিম পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডম |নয়া দিগন্ত

বিনোদনপ্রেমীদের উপস্থিতিতে ঈদের দিন বিকেল থেকে সাভারে থিম পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্কসহ বেশ কয়েকটি বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রোববার (৩১ মে) ঈদের চতুর্থ দিনেও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল দেখার মতো।

বিশেষ করে থিম পার্কগুলোতে স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন অফার প্যাকেজ থাকায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ নগর জীবনের কোলাহল থেকে একটু দুরে সাভারে এখন বিনোদনকেন্দ্রে সময় নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন।

থিম পার্ক দু’টিতে প্রবেশের আগে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা যায়। আবার ভেতরে প্রবেশে আরেক দফা লাইনে দাঁড়াতে হয়। তারপরও প্রতিদিন লাখো দর্শক ভিড় জমাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রতিদিন বিকেলে পার্ক দু’টিতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না।

এছাড়া জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের নিউ মার্কেটের ফ্যান্টা ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক, ভ্রমণ স্পট, মিনি চিড়িয়াখানা, বংশাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট, চামড়া শিল্প নগরী হরিণধরা, হেমায়েতপুরের যমুনা ন্যাচারাল পার্কসহ বেশ কিছু বাগানবাড়িতে ভ্রমণপিপাসুরা দলে দলে ভিড় করছে।

ঈদের দিন বিকেল থেকে সব বিনোদনকেন্দ্রে একই দৃশ্য। এ বছর কোনো বৃষ্টি না থাকায় বিনোদনপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল অন্য বারের চেয়ে বেশি। নন্দন পার্ক, থিম পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডমে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর প্রবেশ করছেন।

দর্শনার্থীরা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর নির্ধারিত রাইডসে চড়তে সমর্থ হন। ঈদের চতুর্থ দিন শ্রীপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা জুলহাস জানান, অবরুদ্ধ পরিবেশ থেকে নন্দন পার্কে খোলামেলা জায়গায় খুব ভাল লাগছে। শহুরে জীবন থেকে খানিকটা রিলাক্স।

তিনি আরো জানান, বাবা-ছেলে খুবই মজা করেছি যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

একইভাবে জানালেন আরেক ব্যক্তি খাইরুল। তিনি তার স্ত্রী ও ছেলেসহ ফ্যান্টাসি কিংডম পার্কে প্রবেশ করার পর চারটি রাইডসে চড়তে পেরেছেন। এতো ভিড়ের মধ্যেও তার ছেলে পার্কটিতে এসে দারুণ এনজয় করেছে বলে জানান এই গামের্ন্টসকর্মী।

তবে তরুণদের মূল আকর্ষণ ওয়াটার কিংডম। সেখানে তারা ডিজে গানের তালে নীল জলের কৃত্রিম ঢেউয়ের সাথে গা ভাসিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। আবার কৃত্রিম পাহাড়ের ঝরনার পানিতে আনন্দে মেতেছেন জুটি বেঁধে আসা তরুণ-তরুণীরা। এ সময় প্রিয়জনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি আর স্মৃতির মুহূর্তগুলো মোবাইলফোনে ধরে রাখতে ব্যস্ত দর্শনার্থীরা।

স্মৃতিসৌধে আসা মাওলানা তৈয়বুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি কোরবানি ঈদ শেষে স্মৃতিসৌধে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। সন্তানদের স্মৃতিসৌধের সাথে পরিচয় করে দেয়ার জন্য এসেছি। স্মৃতিসৌধে এলে মহান স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। এখানে এলে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের অবদানের কথা মনে করিয়ে দেয়।

ফ্যান্টাসি কিংডমের হেড অব মিডিয়া মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা ঈদ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনের ব্যবস্থা রাখি। এবারো এর ব্যতিক্রম নয়। ডান্স, ডিজে শোসহ বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে। প্যাকেজ ভেদে খাওয়া-দাওয়াসহ সব রাইডসও নিতে পারবেন দর্শনার্থীরা।

এছাড়া নিয়ম মেনে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা খরচে বেড়ানোর সুযোগ আছে এই পার্কে। তবে সংস্থাগুলোতে আবেদনের পর যাচাই-বাছাইয়ের পর তারা এই সুযোগটি নিতে পারবেন।

আমরা নিরাপত্তার বিষয়ে বরাবরই জোর দিয়ে থাকি। কারণ পরিবার বা বিনোদনপ্রেমীরা যাতে কোনো রকম নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন। পার্কে আনসার সদস্য ছাড়াও থানা পুলিশসহ অন্যান্য সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে শুধু ফ্যান্টাসি কিংডমই নয়; জিরানী এলাকায় অবস্থিত আরেক থিমপার্ক নন্দন পার্কসহ সাভারের মিনি অরণ্যালয় চিড়িয়াখানা ও জাতীয় স্মৃতিসৌধেও রয়েছে দর্শনার্থীদের ঢল। ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবসে স্মৃতিসৌধকে সাজানো হয়ে থাকে। ঈদ, পূজা পার্বনসহ বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে মানুষ দল বেধে ভিড় করে এখানে।

এছাড়াও নৌকা ভ্রমণ ও ট্রলারযোগে ঘুরে বেড়াচ্ছে তরুণ, যুবকসহ নানা বয়সের বিনোদনপ্রেমীরা। বংশাই নদীতে শত শত ছোট কোষা নৌকাযোগে চড়ে বেড়াচ্ছে ভ্রমণপিপাসুরা। ধলেশ্বরী নদীর তীরে রয়েছে ফেরদৌ-ই-ব্যাঁরী।

আর সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের নিউ মার্কেট কর্তৃপক্ষ ঈদের দিন থেকে ফ্যার্ন্টাসি ওয়ার্ল্ড নামে মার্কেটের চারতলায় শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করছেন। যা এখন আশপাশের ব্যস্ততম সব শ্রেণি-পেশার লোকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি ফেলার অবস্থা হয়েছে।