রাজশাহীতে তীব্র তাপপ্রবাহ, জনজীবন স্থবির

রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের জনজীবন। বিশেষ করে খেটে খাওয়া ও কর্মজীবী মানুষের কষ্ট বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
রাজশাহীতে তীব্র তাপপ্রবাহ, জনজীবন স্থবির
রাজশাহীতে তীব্র তাপপ্রবাহ, জনজীবন স্থবির |নয়া দিগন্ত

রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের জনজীবন। বিশেষ করে খেটে খাওয়া ও কর্মজীবী মানুষের কষ্ট বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এর মধ্যেই বুধবার রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় হিট স্ট্রোকে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তীব্র রোদের পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় গরম আরো অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ১৫ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৫.২ ডিগ্রি। ১৬ এপ্রিল তাপমাত্রা কিছুটা কমে সর্বোচ্চ ৩৪.২ ডিগ্রিতে নেমে আসে। ১৭ এপ্রিল আবার তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৩৬.৮ ও সর্বনিম্ন ২৫.৫ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়। আবার ১৮ এপ্রিল ও ১৯ এপ্রিল সর্বোচ্চ রেকর্ড হয় ৩৪.৫ ডিগ্রি।

এরপর ২০ এপ্রিল থেকে তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করে। এ দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৬ ও সর্বনিম্ন ২৪.৮ ডিগ্রি ছিল। ২১ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ২২ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ এবং সর্বনিম্ন ২৭.৫ ডিগ্রি। আর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) তাপমাত্রা কিছুটা কমে রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দিনের বেলায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি একেবারেই কম। জরুরি প্রয়োজনে যারা ঘর থেকে বের হচ্ছেন, তাদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

এ বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। রিকশাচালক, দিনমজুর ও নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদ উপেক্ষা করেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কাজ শেষে ক্লান্ত শরীরে অনেককেই রাস্তার পাশে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। গরমে একটু স্বস্তি খুঁজতে অনেকে ভিড় করছেন রাস্তার পাশের আখের রসের দোকানগুলোতে।

জীবিকার তাগিদে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা থেকে শহরে রিকশা চালাতে আসা ৬০ বছর বয়সী আব্দুর রশিদ নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘সকাল ৮টায় শহরে এসেছি রিকশা চালাতে, কিন্তু গরমের জন্য খুব একটা ভাড়া মারতে পারিনি। একদিকে রোদের তীব্র তাপ, অন্যদিকে রাস্তায় যাত্রী কম থাকায় তেমন একটা রোজগারও করতে পারিনি।’

এদিকে তীব্র গরমের সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। নগরীর শিরোইল কলোনির বাসিন্দা মোস্তাক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একদিকে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় জীবন অতিষ্ঠ, তার ওপর চলছে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। আমরা এ বিদ্যুতের জ্বালা থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।’

তাপদাহ ও লোডশেডিংয়ের এ দ্বৈত সঙ্কটে রাজশাহী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবন এখন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকরা প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়া ও বেশি বেশি তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।