তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরে নির্মিত সড়ক সেতুগুলো এখন জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। নদীর মনোরম পরিবেশ, খোলা আকাশ ও নির্মল বাতাসে প্রতিদিন বিকেল হলেই স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে এসব এলাকা।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা সড়ক সেতু ও রেলসেতু, সংলগ্ন বিনোদন পার্ক, জেলা শহরের শেখ রাসেল শিশুপার্ক, আনন্দলোক পার্ক এবং কুলাঘাট সংলগ্ন ধরলা সড়ক সেতুতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন জেলার দর্শনার্থীরা। এছাড়া পাটগ্রাম উপজেলার আন্তর্জাতিক তিনবিঘা করিডোর, বুড়িমারী স্থলবন্দর, রাবার ড্যাম, হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ, নওদাবাস শালবন এবং কালীগঞ্জ ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সংযোগস্থল কাকিনা-মহীপুর ঘাট এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত মহিপুর সেতুর আশপাশেও গড়ে উঠেছে ছোট ছোট দোকান, নৌকাভ্রমণ ও নানা বিনোদনের আয়োজন। ফলে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রাণবন্ত পরিবেশ।
ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী চার-পাঁচ দিন এসব পর্যটন স্পটে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ঈদ কিংবা বিশেষ কোনো উপলক্ষ পেলেই হাজার হাজার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে বেড়াতে আসেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর তিস্তা ও ধরলা নদী, তার ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সেতু এবং বিস্তীর্ণ নদীপাড় মিলিয়ে এক অনন্য আবহ তৈরি হয়েছে। নদীর শান্ত স্রোত, সবুজের সমারোহ এবং সেতু থেকে উপভোগ্য সূর্যাস্ত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। বিকেল গড়াতেই নদীপাড়ে জমে ওঠে মানুষের ভিড়—কেউ হাঁটাহাঁটি করেন, কেউ নৌকাভ্রমণে মেতে ওঠেন, আবার কেউ প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় সময় কাটান।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নদীপাড়ে শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিস্তা পাড়ের ফুচকা ও চটপটির দোকানি সাইদুল ইসলাম বলেন, এখানে অর্ধশতাধিক দোকান রয়েছে। ঈদের সময় প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। “ঈদ এলেই আমরা ভালো আয় করতে পারি,” যোগ করেন তিনি।
ৃ
ধরলা সেতু এলাকায় ঘুরতে আসা হাসিবুর রহমান বলেন, প্রতি ঈদেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে আসেন। “খুব ভালো লাগে। বিভিন্ন ধরনের দোকান ও খেলনা পাওয়া যায়, তাই পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি দারুণ,” বলেন তিনি।
স্কুলশিক্ষক মফিজুল হোসেন জানান, প্রতি বছরই তিনি তিস্তা সড়ক ও রেলসেতু এলাকায় ঘুরতে আসেন। “এখানে সব বয়সী মানুষের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি উপযুক্ত স্থান,” বলেন তিনি।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, যেসব স্থানে দর্শনার্থীদের সমাগম বেশি, সেসব এলাকায় বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, তিস্তা ব্যারাজসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও কাজ করছে। ছিনতাই ও ইভটিজিং প্রতিরোধে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারেন।



