বিআরটিএ চেয়ারম্যানের উদ্বেগ

১৪ ঘণ্টার স্টিয়ারিংয়ে ক্লান্ত চালক, বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে চালকদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ
বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ |নয়া দিগন্ত

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে চালকদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, আইনে একজন চালকের দৈনিক সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর বিধান থাকলেও বাস্তবে অনেক চালক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্টিয়ারিংয়ে থাকছেন। অতিরিক্ত কর্মচাপ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব ও অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতার কারণে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

বুধবার (৪ মার্চ) ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মো: শাহাবুদ্দীন হলরুমে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিআরটিএ’র উদ্যোগে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার ১৩৩টি পরিবারকে মোট ৫ কোটি ২৯ লাখ টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ৭৬ জনকে ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা, জামালপুরে ৩৫ জনকে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, নেত্রকোণায় ১৮ জনকে ৭৮ লাখ টাকা এবং শেরপুরে ৪ জনকে ২০ লাখ টাকা দেয়া হয়।

চেয়ারম্যান আরো বলেন, দেশের সড়কগুলো তাদের ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি যানবাহনের চাপ বহন করছে। কোনো কোনো সড়কের সক্ষমতা ৫০ হাজার যানবাহন হলেও সেখানে দুই লাখেরও বেশি গাড়ি চলাচল করছে। পাশাপাশি পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় স্ক্র্যাপিং নীতিমালা অনুসারে পর্যায়ক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে।

চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, পেশাদার লাইসেন্স পেতে এখন থেকে বাধ্যতামূলক ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই কেবল বিআরটিএ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো: সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চেক তুলে দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকেও সচেতনতা সৃষ্টিতে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে উৎসব মৌসুমে সড়কে বাড়তি সতর্কতা জরুরি, যাতে কোনো পরিবারের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে রূপ না নেয়।’

অনুষ্ঠানে বিআরটিএ ময়মনসিংহ কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত কুমার দেবনাথ, মোটরযান পরিদর্শক মো: জহিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।