কটিয়াদীতে ৪ শতাধিক পরিবারের মাঝে সাহরি ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ

প্রতিটি বস্তায় আলু, পেঁয়াজ, ছোলা, মসুর ডাল, চিনি, সয়াবিন তেল, সেমাই ও মুড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়, যাতে একটি পরিবারের সদস্যরা রমজান মাসে সাহরি ও ইফতার নির্বিঘ্নে করতে পারেন।

ফখর উদ্দিন ইমরান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)

Location :

Kishoreganj
মাহমুদ প্যালেস প্রাঙ্গণে সাহরি ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ
মাহমুদ প্যালেস প্রাঙ্গণে সাহরি ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ |নয়া দিগন্ত

পবিত্র রমজান উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বেথইর আনন্দবাজার সংলগ্ন মাহমুদ প্যালেস প্রাঙ্গণে চার শতাধিক নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবারের মাঝে সাহরি ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সপ্তাহব্যাপী চলা এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রমজানের শুরুতে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর খাদ্যসঙ্কট লাঘব এবং স্বস্তি দিতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রতিটি বস্তায় আলু, পেঁয়াজ, ছোলা, মসুর ডাল, চিনি, সয়াবিন তেল, সেমাই ও মুড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়, যাতে একটি পরিবারের সদস্যরা রমজান মাসে সাহরি ও ইফতার নির্বিঘ্নে করতে পারেন।

রইছ মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মাহমুদুল ইসলাম গত সপ্তাহের শনিবার নিজ বাসভবন মাহমুদ প্যালেস প্রাঙ্গণে কয়েকজন উপকারভোগীদের হাতে এসব পণ্য সামগ্রী তুলে দেন। পরে পর্যায়ক্রমে সপ্তাহব্যাপী এই বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানকে সামনে রেখে অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। রমজান শুধু সংযমের মাস নয়, এটি সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতারও মাস। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন এগিয়ে এলে অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।’

তিনি জানান, রমজান ছাড়াও বছরজুড়ে চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক অনুদান, শিক্ষা সহায়তা ও শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ভবিষ্যতেও দল-মত নির্বিশেষে মানুষের কল্যাণে এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ ইউসুফ, আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম সুমন, স্থানীয় মেম্বার রফিকুল ইসলাম বিপুল, কবি ও সাহিত্যিক মেরাজ রাহিম, হাফেজ গোলাম কিবরিয়া, হাফেজ মোজাহিদুল ইসলাম, সমাজসেবক গোলাপ মিয়া, শাহাবুদ্দিনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পণ্যসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রমজানের শুরুতেই এ ধরনের সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আয়োজকরা মানুষের পাশে রয়েছেন বলেও তারা মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কেবল তাৎক্ষণিক সহায়তাই নয়, সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।