যশোরে কোরবানির পশু পালনকারীদের দুশ্চিন্তা যাচ্ছে না। সারাবছর লালনপালন করার পর পশু বিক্রি করে মুনাফা হবে কিনা তাই নিয়ে যত দুশ্চিন্তা তাদের। পশু খাদ্যের দাম বেশি থাকায় এ বছর বেশি খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।
যশোর সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের লিমা খাতুন চারটি গরু লালনপালন করেছেন। এর মধ্যে আসন্ন কোরবানি ঈদে দুইটি এঁড়ে গরু বিক্রি করতে চান। গরুকে ঘাস, বিছালির পাশাপাশি খৈল, ভুসি ও দানাদার খাবার খাওয়ান তিনি। এসব খাবার বাজার থেকে চড়া দামে কিনতে হয়েছে তাকে। গবাদি পশুর খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হৃষ্টপুষ্ট করতে খরচ বেড়েছে। খরচের তুলনায় ঈদে গরুর দাম মিলবে কি না, সেটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
একই গ্রামের আরেক খামারি সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘আমার গোয়ালে ছয়টি গরু আছে। এরমধ্যে দুটো এঁড়ে গরু বড় করছি কোরবানিতে বিক্রি করার জন্য। প্রতিবছর কোরবানি উপলক্ষে গরু মোটাতাজা করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাম না পেয়ে কসাইয়ের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হই। বিগত বছর পাঁচ-সাতটি গরু মোটাতাজা করলেও এবার মাত্র দুইটি করছি। দাম না পাওয়ায় আমার মতো অনেকেই কোরবানি উপলক্ষে গরু মোটাতাজাকরণ কমিয়েছে।’
সোলাইমান হোসেন ও লিমা খাতুনের মতো অনেক প্রান্তিক খামারির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। প্রতি বছর কোরবানি ঈদে গরুর ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ হন খামারিরা। এবারও আশায় বুক বেধেছেন তারা। কোরবানি উপলক্ষে গবাদি পশু লালনপালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা।
জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে জেলায় ১৩ হাজার ৬৪০টি গবাদি পশুর খামার রয়েছে। এসব খামারে এক লাখ ১৭ হাজার ৯৯৭ টি কোরবানিযোগ্য পশু আছে। এরমধ্যে ষাঁড় ২৮ হাজার ৮৪৪, বলদ ৯৫৭, গাভী ৬ হাজার ৪৫৮, ছাগল ৮১ হাজার ২৭৬ ও ভেড়া ৪৪২টি। জেলায় এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে এক লাখ তিন হাজার ১২৮টি। চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার উদ্বৃত্ত গবাদি পশু লালনপালন করছেন খামারিরা।
সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের কৃষক মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘কোরবানি সামনে রেখে পশু খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। সেই কারণে পশু মোটাজাতাকরণে বেড়ে যায় খরচও। একটা গরুর মোটাতাজাকরণে যা খরচ, সেই তুলনায় দাম পাওয়া যায় না। কোরবানির আগে সিন্ডিকেট করে পশুর দাম কমিয়ে দেয়া হয়। এতে আমাদের মতো যারা বাড়িতে গরু লালনপালন করি, তারা বিপাকে পড়ি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে লোকসানে গরু বিক্রি করতে হয়। লোকসান হওয়ায় গ্রামের অনেকেই গরু মোটাতাজাকরণ করছে না। দিন দিন গরু মোটাতাজাকরণের সংখ্যা কমছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: সিদ্দিকুর রহমান দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘কোরবানি উপলক্ষে জেলায় এক লাখ ১৭ হাজার গরু-ছাগল হৃষ্টপুষ্ট করছেন খামারিরা। প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে নিরাপদ পশু মোটাতাজাকরণে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যশোরের পশু নিরাপদ। এ কারণে এসব পশু কোরবানির উপযোগী।’
তিনি বলেন, ‘আমি নিজে খামারিদের বাড়িতে গিয়েছি। তখন তাদের অনেকেই বলেছেন, পশু খাদ্যের দাম বেশি, তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আমরা সেই সব খামারিকে বলেছি, কেবল দানাদার খাবারের ওপর নির্ভর করলে হবে না, কাঁচা ঘাস দিয়ে গরু পালন করতে হবে। কাঁচা ঘাস খাওয়ালে খাবারের খরচ কম হয়। আবার অনেক খামারির দাবি, সীমান্ত বন্ধ রাখার জন্য। যাতে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করতে না পারে। আমরা তাদের অভয় দিয়েছি, ভারতীয় গরু দেশে আসবে না।’



