চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত পাঁচ বছরে প্রায় সাত হাজার ৬০০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। রাজস্ব আয় ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে সংস্থাটি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ পাঁচ পঞ্জিকাবর্ষে বন্দরের রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে রাজস্ব উদ্বৃত্তের প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ সাফল্য এসেছে সেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনার মাধ্যমে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজস্ব ব্যয়ের গড় প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশের মধ্যে ধরে রেখেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গত পাঁচ বছরে ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) বাবদ সাত হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের গত পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আয় করেছে পাঁচ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। একই সময়ে রাজস্ব ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্বৃত্ত রাজস্বের পরিমাণ তিন হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, গত পাঁচ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
সূত্রমতে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনার ফলে ২০২৪ সালেও বড় অঙ্কের অর্থাৎ দুই হাজার ৯২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। বছরটিতে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছিল পাঁচ হাজার ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় ছিল দুই হাজার ১৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। তার আগের বছরগুলোতে অর্থাৎ ২০২৩, ২০২২ ও ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে দুই হাজার ১৪৩ কোটি ১১ লাখ, এক হাজার ৭৩৪ কোটি ২০ লাখ ও এক হাজার ৬৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় ছিল ২০২৪ সাল। বছরটিতে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষেও বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালে রাজস্ব আয়ে ১৬ দশমিক ৬৯ এবং ২০২২ সালে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধের নীতি কঠোরভাবে পরিপালন করায় গত দুই বছর ধরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের ঘরে রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটির রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০২৪ সালেও ব্যয় প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে সীমিত রাখতে পেরেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। যদিও ২০২৩ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধির হার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল এবং বছরটিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব ব্যয় হয়েছে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি ছিল। এর আগে, ২০২২ সালে বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ের এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতি বছর বড় অঙ্কের অর্থ জমা দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে এ অর্থ জমা দেয় তারা। গত পাঁচ পঞ্জিকাবর্ষে সংস্থাটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে মোট সাত হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা দিয়েছে কর হিসেবে, যার পরিমাণ তিন হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা। এছাড়া মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ জমা দিয়েছে তিন হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর বাইরে কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) হিসেবে গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মোট ৬০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরো জানান, রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া অর্থের পরিমাণও প্রতি বছর বাড়ছে। সর্বশেষ ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষেও কর, ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে সরকারের কোষাগারে এক হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। ২০২৪ পঞ্জিকাবর্ষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এক হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জমা দেয়া হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালে এক হাজার ৫১৯ কোটি ৩৫ লাখ, ২০২২ সালে এক হাজার ৩৫৯ কোটি ৫৯ লাখ এবং ২০২১ সালে এক হাজার ১৮৫ কোটি চার লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে জোগান দিয়েছে।



