তালতলীতে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

পরিবারের দাবি হত্যা

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউসুফ আলী, তালতলী (বরগুনা)

Location :

Taltali
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেয়া হচ্ছে
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেয়া হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

বরগুনার তালতলী উপজেলায় আছিয়া বেগম (২৩) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার পশ্চিম অঙ্কুজানপাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আছিয়া বেগম তালতলী উপজেলার মৌরভী গ্রামের মজিবর জমাদ্দারের মেয়ে এবং পশ্চিম অঙ্কুজানপাড়া গ্রামের আব্দুর রব পাহলানের ছেলে ফরহাদ হোসেন পাহলানের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে পারিবারিকভাবে আছিয়া বেগমের সাথে ফরহাদ হোসেন পাহলানের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার বছর ও এক বছর বয়সী দু’টি ছেলেসন্তান রয়েছে।

জানা গেছে, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটার জন্য গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) স্বামী ফরহাদ হোসেন স্ত্রীকে ১৬ হাজার টাকা দেন। ওই টাকা নিয়ে আছিয়া বেগম তার বাবার বাড়িতে গিয়ে বাবাকে সাথে নিয়ে তালতলী বাজারে ঈদের কেনাকাটা করেন। শুক্রবার তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কেনাকাটার টাকা কম হওয়া নিয়ে রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শাশুড়ি ফাতেমা বেগম তাদের ঝগড়া থামান। এর কিছুক্ষণ পর স্বামী ফরহাদ হোসেন আলাদা বিছানায় ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আছিয়া বেগম ঘরের বারান্দার টিনের চালার আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন বলে নিহতের জা ও শাশুড়ি ফাতেমা বেগম জানান। এ সময় ছোট ছেলে মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে কান্নাকাটি শুরু করলে শাশুড়ি ফাতেমা বেগম দৌড়ে এসে ওড়না কেটে তাকে নিচে নামান।

ডাক চিৎকার শুনে স্বামী ফরহাদ হোসেন ঘটনাটি জানতে পেরে শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজনকে মোবাইলফোনে জানান এবং বিষয়টি তালতলী থানায় অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

তালতলী থানার এসআই ওয়াসিম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ মাটিতে শোয়া অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পাশে একটি কাটা ওড়না পড়ে ছিল। নিহতের গলার ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।