বরিশাল-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বারের সমর্থকদের ওপর বার বার হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রার্থীর প্রধান অ্যাজেন্ট সৈয়দ গুলজার আলম।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে বরিশাল প্রেস ক্লাব হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় তার সাথে দৈনিক সংগ্রামের বরিশাল ব্যুরো চিফ অ্যাডভোকেট শাহে আলম, নির্বাচনী মিডিয়া কমিটির সমন্বয়ক মুজাহিদুল ইসলাম ইউসুফ, সালেহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দ গুলজার আলম তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আন্দারমানিক ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো: শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের কলকুঠি মাদরাসা এলাকায় প্রচারণা করছিল। তখন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদেরকে বাধা দেয়।
এ নিয়ে জামায়াত নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করলে পাশে বিএনপি অফিসের মধ্য থেকে লাঠিসোটা এনে তাদের উপরে বেধরক হামলা চালায় বিএনপি কর্মীরা। হামলায় নেতৃত্ব দেয় মোফাজ্জেল দেওয়ান, মোহাম্মদ আলী, আয়নাল মাঝি, আনোয়ার হাওলাদার সহ আরো ২৫/৩০ জন।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সাথে থাকা ১২টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে খালে ফেলে দেয় এবং একটি মোটরসাইকেল হামলাকারীরা নিয়ে যায়। এ সময় লাঠির আঘাতে কয়েকজনের মাথা ফেটে গুরুতর আহত হয় এবং এক জনের পা ভেঙ্গে যায়। আহত কয়েকজন পাশের চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও তারা হামলা চালায়।
এক পর্যায়ে জামায়াত নেতা-কর্মীরা সেনাবাহিনীকে ফোন দিলে সেনা সদস্যরা এসে তাদের উদ্ধার করেন।
আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক দুইজনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, বাকি পাঁচজনকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এর আগেও গত ২ ফেব্রুয়ারি হামলাকারী মোহাম্মদ আলীসহ ধানের শীষের কর্মী বেলাল দাই, নাসির মৃধা, দুলাল খান, জুলহাস সিকদার, মফিজ হাওলাদার, শহিদ বিশ্বাস, মুনছুর মিয়া, মনির দেওয়ান, আল আমিন খান, নূরুল ইসলাম, মোজাম হাওলাদার, আলাউদ্দিন আলী রানা, নাসির উজ্জ্বলসহ তাদের ১৫/২০ জন সন্ত্রাসীরা আমাদের মহিলা কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছিল। সে ঘটনায় তখন কাজিরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল কিন্ত পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় পুনরায় এই হামলার ঘটনা ঘটলো।
সৈয়দ গুলজার আরো বলেন, এসব ঘটনায় বার বার লিখিত অভিযোগ দিয়েও আমরা কোন প্রতিকার পাইনি। উল্টো ধানের শীষের নেতাকর্মীরা আমাদের সমর্থকরেদকে হুমকি ধামকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এহেন কাজ নিশ্চিতরুপে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং একই সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।



