জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই, সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঘোষিত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট জেলা পরিষদের উদ্যোগে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সিলেট সদর উপজেলার বাইশটিলায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ন্যাচারাল পার্কে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশকে পরিবেশবান্ধব, সবুজ ও বাসযোগ্য রাষ্ট্রে পরিণত করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বনায়ন সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তা দেশের পরিবেশ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের বনভূমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সরকারের এই উদ্যোগ সফল করতে এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শামীম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দূরদর্শী উদ্যোগ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে বনায়ন বৃদ্ধি এবং পাহাড়-প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সড়ক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।
সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষার এই আন্দোলনে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নিতে হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহ, নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাস, সহকারী প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হোসেন, উপসহকারী প্রকৌশলী সূর্য সেন রায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম কামারুজ্জামান মাসুম, প্রশাসকের একান্ত সচিব আমিন উদ্দিন আহমদসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



