বকশীগঞ্জে বেড়েছে ভ্যান ও অটোরিকশা ছিনতাই, আতঙ্কে চালকরা

‘গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) বকশীগঞ্জ পৌর শহরের সীমারপাড় এলাকা থেকে দিনে-দুপুরে আমার অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।’

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

Location :

Jamalpur
বেড়েছে অটোরিকশা ছিনতাই, আতঙ্কে চালকরা
বেড়েছে অটোরিকশা ছিনতাই, আতঙ্কে চালকরা |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

‎জামালপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা বকশিগঞ্জে ব্যাপক হারে বেড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে চালকদের।

এ উপজেলায় প্রতিমাসে কমপক্ষে দুই-তিনিটি বা তারও বেশি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতেও নেই কোনো আইনি পদক্ষেপ। শুধু ছিনতাই নয়; এ সময় আহতও করা হয় চালকদের। আবার কখনো কখনো চালককে হত্যার ঘটনাও ঘটছে।

‎অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো খাদ্য দ্রব্যের সাথে চালককে উচ্চ মাত্রার নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর পর অটোরিকশা ছিনতাই করা হয়। আবার কেউ ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ছিনতাই করছে।

‎বকশীগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা চালকের খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ছিল ওই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি। ছিনতাই হওয়ার পর অভাব-অনটনে দিন পার করছে পরিবারের সদস্যরা। রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন করছেন তারা। নিহত চালকদের বাড়ি থেকে কাটছে না শোকের মাতম।

উপজেলার বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজারের অধিক ছোট-বড় অটোরিকশা চলাচল করে। প্রতিদিনই অটোরিকশা ছিনতাই হওয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয় চালকদের মাঝে।

‎ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার চালক সাধুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা টারু মিয়া বলেন, ‘গত প্রায় দুই মাস হয়ে গেল আমার অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়েছে। থানায় অভিযোগও দেয়া হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাইলাম না।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রথমে যাত্রী হয়ে গাড়িতে উঠেছিল ছিনতাইকারীরা। পরে নির্জন এলাকায় গিয়ে আমাকে জোর করে পান খাওয়ায় তারা। এতে হঠাৎ আমার চোখ বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাস্তার পাশ থেকে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই গাড়িটি আমার একমাত্র আয়ের উৎস ছিল।’

ছিনতাই হওয়া আরেক অটোরিকশা চালক সুলতান বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) বকশীগঞ্জ পৌর শহরের সীমারপাড় এলাকা থেকে দিনে-দুপুরে আমার অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। প্রথম তারা যাত্রী হয়ে গাড়িতে ওঠে। পরে সীমারপাড় এলাকায় এসে আমাকে একটি বাড়িতে পাঠায় কিছু মালপত্র আনার জন্য। কিন্তু একটু পর এসেই দেখি আমার গাড়ি নাই লোকটিকেও আর পাচ্ছি না।’

‎অপর অটোচালক মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘যাত্রীদের সুবিধার্থে গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। কিন্তু যেভাবে গাড়ি ছিনতাই হচ্ছে তাতে আমাদের গাড়ি নিয়ে বের হতে অনেক ভয় করে। তবুও জীবনের তাগিতে গাড়ি চালাতে হয়।’

‎অটোরিকশা চালক সবুজ মিয়া বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। গাড়ি চালাইলে বউ-পোলাপানের ভাত জুটে। গাড়ি যদি ছিনতাইকারী নিয়ে যায় তাহলে আমরা যামু কই, খামু কি?’

‎আরেক অটোরিকশাচালক লিটন বলেন, ‘ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় আমরা ড্রাইভাররা ভয়ের মধ্যে আছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি যাতে এই ছিনতাই থেকে আমাদের রক্ষা করে।’

‎এদিকে ছিনতাই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সড়কে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অদক্ষ চালকরা অটোরিকশা চালায়। অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকের হাতে অটোরিকশা থাকায় ছিনতাইকারী সহজেই তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। ছিনতাইকারীর অধিকাংশই আবার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আবার মাদকাসক্ত যুবসমাজও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের মতো জঘন্য কাজ করে থাকে।

‎এছাড়া এদের মধ্যে অটোচালকদের ন্যূনতম প্রশিক্ষণও নেই। বেশিরভাগ অটোগাড়ি ছিনতাই হয়ে থাকে সন্ধ্যার পর কিংবা দূর-দূরান্তের পথে চলাচলের ক্ষেত্রে। চালকদের নির্দিষ্ট সড়ক বেঁধে না দেয়াকেও কারণ হিসেবে বলছেন অনেকেই। তবে চালক ও যাত্রী সবাই পরিত্রাণ চান এই ছিনতাই আতঙ্ক থেকে।

‎এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) মো: সাইফুল ইসলাম জানান, অটোরিকশা ছিনতাইসহ সব ধরনের ছিনতাই বন্ধে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ছিনতাই হওয়া কয়েকটি অটোরিকশা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ।

ছিনতাইয়ের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা চলমান আছে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে মাঠে কাজ করছে। ছিনতাইকৃত অটোচালকরা মামলা দায়ের করায় আইনানুগ ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।