হামলায় শিক্ষককের ২ পা হারানোর শঙ্কা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা

হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষকের বাবা মাজেদ আলী শিকদার বাদী হয়ে লিপি ও তার ভাইসহ পাঁচজনের নামে কালকিনি থানায় মামলা করেন। আসামিরা সবাই উচ্চ আদালত ও নিন্ম আদালত থেকে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Location :

Madaripur
শিক্ষক ইমাম হোসেন রাজন
শিক্ষক ইমাম হোসেন রাজন |নয়া দিগন্ত

মাদারীপুরের কালকিনিতে ১৫৮ নম্বর চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের সাথে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টিফিন বিতরণ নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ইমাম হোসেন রাজনের সাথে বিরোধ তৈরি হয়। এরই জেরে গত ২রা জুলাই বিদ্যালয় ছুটি শেষে ফেরার পথে পশ্চিম আলীপুরের খেয়াঘাট এলাকায় রাজনের ওপর লিপি বেগমের নির্দেশে অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে লিপির ভাই মিলন মোল্লা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেয়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওইদিন রাতেই রাজনকে পাঠানো হয় রাজধানী ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে।

থানা পুলিশ সূত্র বলছে, হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষকের বাবা মাজেদ আলী শিকদার বাদী হয়ে লিপি ও তার ভাইসহ পাঁচজনের নামে কালকিনি থানায় মামলা করেন। আসামিরা সবাই উচ্চ আদালত ও নিন্ম আদালত থেকে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষক ইমাম হোসেন রাজন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং-এর খাবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তার বাড়িতে নিয়ে যেত। এটি নিয়ে আমি প্রতিবাদ করলেই দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে তার নির্দেশের লিপি আক্তারের ভাই মিলন মোল্লা লোকজন নিয়ে আমার দুই পা ভেঙে দেয়। এই ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’

এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে লিপি আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার ভাই এই ঘটনার সাথে কোনো অবস্থাতেই জড়িত নই। আর ঘটনাস্থলে না এসে সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনগড়া প্রতিবেদন দিয়েছে। এজন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে। আমি ন্যায়ের সাথে আছি। সত্যের জয় হবেই।’

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জহিরুল আলম বলেন, ‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আদালতে দেয়া হবে অভিযোগপত্র।’

মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলে এলাহী জানান, একজন শিক্ষক হয়ে আরেকজন শিক্ষকের ওপর এমন হামলা কিছুতেই মেনে নেয়ার নয়। কালকিনির সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবীন্দ্র নাথ দত্ত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় রিপোর্ট প্রদান করেছেন। সেই আলোকেই এরইমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে জেলা শিক্ষা অফিস। সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে জেলা শিক্ষা অফিস।