গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৫নম্বর সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদে ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণে বাধা ও অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাপমারা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো: সরোয়ার মন্ডল।
রোববার (২২ মার্চ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও সম্মানহানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, সাপমারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল এবং তার সহযোগীরা নিজেদের অনিয়ম আড়াল করতে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য সরবরাহ করেছেন।
সরোয়ার মন্ডল বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাপমারা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভিজিএফ চাল বিতরণের যাচাই-বাছাই কমিটির একজন সদস্য। গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে তালিকা প্রণয়ন করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়।
তিনি আরো বলেন, পরদিন ১৮ মার্চ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল সচিব ও ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ছাড়াই এককভাবে চাল বিতরণ করতে গেলে তালিকাভুক্ত কিছু ব্যক্তি চাল না পাওয়ায় সেখানে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। তবে ওইদিন তিনি ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন না; বরং মহিমাগঞ্জে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। এরপরও তার বিরুদ্ধে চাল বিতরণে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি অভিযোগ করেন, তালিকাভুক্ত প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন এখনো ভিজিএফের চাল পাননি এবং এসব চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া, ১৯ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ নিতে গেলে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের হাতে তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বলেও অভিযোগ করেন এবং পরে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মিনহাজুল ইসলাম, ওয়ায়েস কুরনী, লেবু মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক, মেজবাউল ইসলাম, শরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ—মতলেব শেখ, আমিরুল ইসলাম, শাহ আলম মন্ডল, শাহজালাল বাদশা, নুর আলম বাবু, বেলাল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, রাজু সরকার এবং ভুক্তভোগী কার্ডধারীদের মধ্যে আব্দুল লতিফ, ছবি রানী, মজিদসহ আরও অনেকে।



