যশোরে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের মানববন্ধন

নতুন নিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের তীব্র সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, খুরশীদ আলম যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অঞ্চলের ডিরেক্টর ছিলেন, তখন চায়ের ভাউচার দেখিয়ে ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। সেই মামলা এখনো দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চলমান। একজন তদন্তাধীন মামলার দাগী আসামিকে কিভাবে ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান করা হলো, তা জাতি অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চায়।

এম আইউব, যশোর অফিস

Location :

Jashore
নয়া দিগন্ত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএরপির বিতর্কিত চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) যশোর ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ফোরামের যশোর শাখার আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান রতনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম শিহাবের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন গ্রাহক মানসুরা আকতার ইতি, ফারুক হোসেন, ড. মাহবুবুর রহমান, মাইনুল ইসলামসহ অনেকেই।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আমাদের ১০ দফা দাবি পেশ করেছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, গত ২৪ মার্চ বিকেলে কর্মরত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডক্টর ওবায়দুর রহমানকে পদচ্যুত করা হয়। সেখানে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশিদ আলম নামের এক বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিযুক্ত করা হয়েছে। আমরা এই অবৈধ নিয়োগকে দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করছি।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৪ তারিখে আমাদের ঘোষণা ছিল- ইসলামী ব্যাংক দখল করতে হলে এদেশের তিন কোটি গ্রাহকের রক্তের উপর দিয়েই করতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের শান্তিকামী গ্রাহকদের উপরে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মতিঝিলের প্রান্তর রক্তে রঞ্জিত করা হয়েছে। আমরা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই নিরীহ, নিরাপরাধ ও নিরস্ত্র গ্রাহকদের ওপর গুলি চালিয়ে কিংবা গ্রাহকদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশি হামলা চালিয়ে তিন কোটি গ্রাহককে দমানো যাবে না।

সমাবেশে বক্তারা ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ কর্তৃক ব্যাংকটি দখলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ২০১৭ সালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের প্ররোচনায় ইসলামী ব্যাংক দখল করা হয়েছিল, কারণ তখন গ্রাহকরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেননি। কিন্তু আজকে ২০২৬ সালে এসে তিন কোটি গ্রাহক এবং তাদের পরিবারসহ কোটি কোটি মানুষ সজাগ ও সচেতন। তৌহিদী জনতা, কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতী মানুষের রক্ত-ঘামে গড়া এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার আমানতের এই ব্যাংককে কোনোভাবেই আর লুটেরাদের হাতে দখল হতে দেয়া হবে না।

নতুন নিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের তীব্র সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, খুরশীদ আলম যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অঞ্চলের ডিরেক্টর ছিলেন, তখন চায়ের ভাউচার দেখিয়ে ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। সেই মামলা এখনো দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চলমান। একজন তদন্তাধীন মামলার দাগী আসামিকে কিভাবে ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান করা হলো, তা জাতি অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চায়।

তারা আরো বলেন, এস আলম গ্রুপ যে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক লুটপাট করে ফোকলা করে দিয়েছে, খুরশীদ আলম এতই যোগ্য হলে উনাকে সেই ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব দেয়া হলো না কেন? বিগত ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগে যিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোষানলে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন, যার সাথে এস আলম ও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মন্ত্রীদের সুস্পষ্ট লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে- এমন একজন কুখ্যাত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান বানিয়ে সরকার মূলত তিন কোটি গ্রাহকের ঈমান ও আস্থার সাথে উপহাস করেছে।