দেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত : ডা: তাহের

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সারা দেশের মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ।’

সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা)

Location :

Chauddagram
বক্তব্য রাখছেন ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের
বক্তব্য রাখছেন ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের।

এ সময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সারা দেশের মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের উনকোট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের বলেন, ‘দেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে ১১ দলীয় জোট, অপরদিকে অন্য একটি দল। ১১ দলীয় জোটে আছে দেশে বৃহৎ ইসলামী দলসমূহ, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের দল, জুলাই বিপ্লবের সিপাহসালাহর দল এনসিপি এবং দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদ বিরোধী কয়েকটি দেশপ্রেমিক দল। ১১ দলীয় এ জোট হচ্ছে এমন একটি জোট, যেটি বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সারা দেশের মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের জন্য এক চ্যালেঞ্জিং সিচুয়েশন চলছে। আমরা কি ৫৬ বছরের পুরনো অন্ধকারের দিকে পশ্চাতে হাঁটতে থাকবো, নাকি আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য এগিয়ে যাবো— এ সিদ্ধান্ত হবে আগামীর নির্বাচনে।’

ডা: তাহের আরো বলেন, “সংস্কারের প্রশ্নে প্রথমে কেউ বলেছিল ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিরুদ্ধে ‘না’ দেয়ার জন্য। কিন্তু জনগণের চাপের কারণে ‘না’ এখন ‘হ্যাঁ’ হয়ে গেছে। উনারা বলেছিলেন, বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থান হচ্ছে, ইসলামের উত্থান হচ্ছে। আর এখন তারা বলছে, আল্লাহ ও রাসূল সা:-এর আদর্শ অনুসারে দেশ পরিচালনা করবে।”

‘তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন বাংলাদেশ দুর্নীতিতে তিনবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এখন আবার তারা বলছে, আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বো। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়লে তো আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু এই কথা কি ঠিক থাকবে? লক্ষণ আছে? কারণ, বিপ্লবের পরে সারা দেশে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি কারা করেছে এটা সকলে জানে। সুতরাং যারা এটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাদের দ্বারা দুর্নীতি দূর করা সহজ হবে বলে মনে হয় না,’ বলেন তিনি।

ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ডা: মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বাহারের পরিচালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট মু. শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ড. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমির ভিপি সাহাব উদ্দিন, সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, ইকবাল হোসেন মজুমদার, এমদাদুল হক শাহী, রুহুল আমিন, মমিনুল ইসলাম, আবুল খায়ের, খেলাফত মজলিসের উপজেলা আমির মাওলানা শাহজালাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর হারুনুর রশীদ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্র পরিচালক হাফেজ জহিরুল ইসলাম, আবদুল মন্নান, কামাল পাশা, নুরে আলম, মাওলানা মুজাম্মেল মনোয়ার, শেখ আহমেদ, মাওলানা রেজাউল করিম, জসিম মেম্বার, সৈয়দ আহমেদ, আহসান উল্যাহ, মামুনুর রশীদ, নুর হোসাইন মিয়াজী, মাওলানা আলী ওয়াক্কাছসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ।