ধলেশ্বরী নদী দখল করে চলছে ফ্যাক্টরির ড্রেনেজ নির্মাণ

সুদক্ষিরা মৌজায় নদী তীরবর্তী ফোরশোরভুক্ত জমিগুলো সর্বশেষ দিয়ারা জরিপে (বিআরএস) খাস খতিয়ানভুক্ত রেকর্ড সম্পন্ন হয়েছে। তবে কিছু জমি ব্যক্তি মালিকানায়ও রেকর্ড হয়েছে।

সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)

Location :

Manikganj
ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ
ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ |নয়া দিগন্ত

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ধলেশ্বরী নদী দখল করে বিভিন্ন কল-কারখানার অবকাঠামো ও ড্রেনেজ নির্মাণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। উপজেলার বিন্যাডাঙ্গী এলাকার সুদক্ষিরা মৌজায় ধলেশ্বরী নদী দখল করে চলছে রেজা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (আরসিএল) কোম্পানির এ্যাসপায়ার ওয়াশিং ফ্যাক্টরির নির্মাণ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নির্মাণ কাজটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

জানা গেছে, সুদক্ষিরা মৌজায় নদী তীরবর্তী ফোরশোরভুক্ত জমিগুলো সর্বশেষ দিয়ারা জরিপে (বিআরএস) খাস খতিয়ানভুক্ত রেকর্ড সম্পন্ন হয়েছে। তবে কিছু জমি ব্যক্তি মালিকানায়ও রেকর্ড হয়েছে।

এর আগে সরেজমিন দেখা গেছে, দিয়ারা জরিপ (বিআরএস) ৩৩৭ দাগে ১৩ শতাংশ ও ৩২৯ দাগে ৪৮ শতাংশ জমি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। ওই দু’টি দাগের জমি দখল করে তার ওপর দিয়েই আরসিএল কোম্পানি শুরু করে তাদের ওয়াশিং ফ্যাক্টরির ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই জমি সংলগ্ন সরকারি রাস্তার পশ্চিম পাশে আরসিএল কোম্পানির ওয়াশিং প্লান্টের জন্য নদী থেকে নির্মাণাধীন ফ্যাক্টরি পর্যন্ত চলছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ কাজ। ওই ড্রেনেজের মাধ্যমে ধলেশ্বরী নদীতে অপসারণ করা হবে ফ্যাক্টরির বর্জ্য।

একদিকে, খাস জমি দখল ও অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ নিয়ে ফ্যাক্টরি মালিক ও এলাকাবাসীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়ে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এতে সংঘাতের আশঙ্কাও করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে ডরিন গ্রুপের মালিকানাধীন মানিকগঞ্জ পাওয়ার জেনারেশনস নামের প্রতিষ্ঠানটি নদী ফোরশোরভুক্ত জমির ওপর দিয়ে দাহ্য পদার্থ আনতে নদী থেকে পাইপ লাইন স্থাপন করে। যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

একই অবস্থা দেখা গেছে, পার্শ্ববর্তী আঞ্চলিক মহাসকের উত্তর পাশে ধল্লা ইউনিয়ন এলাকায় ওই প্রতিষ্ঠানটি একই কায়দায় নদীর জমিতে পাইপ লাইন স্থাপন করেছে। এতে একদিকে দখল হচ্ছে নদী তীরবর্তী জমি, অন্যদিকে পরিবেশের ঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের বাসিন্দারা।

এ্যাসপায়ার ওয়াশিং প্ল্যান্টের ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জায়গাটি স্থানীয় লাবু ও বখতিয়ারের মাধ্যমে লিজ নেয়া মালিকের কাছ থেকে চুক্তি করে কাজ শুরু করেছিলাম। এতে নায়েব সাহেব বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনুমতির জন্য ডিসি অফিসে আবেদন করা হয়েছে এখনো অনুমোদন পাইনি।’

মধ্যস্থতাকারী স্থানীয় লাবু সরকার বলেন, ‘বন্দোবস্তের জায়গা ক্রয়সূত্রে জনৈক পারভেজ সাহেব মালিক। তার কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ জমি বায়না করে বর্জ্য অপসারণের জন্য চার ফুট প্রস্থ ও ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্য ড্রেন নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে জামির্ত্তা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো: আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘খাস জমির উপর দিয়ে ড্রেনেজ নির্মাণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজে বাধা দিয়ে বন্ধ করে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি বাধা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: হাবেল উদ্দিন বলেন, ‘নদী থেকে রাস্তা পর্যন্ত ফোরশোরভূক্ত অঞ্চল। এখানে কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা ভরাটের বিষয় থাকলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগবে। ডাইং ফ্যাক্টরী করলে সেটা পরিবেশ অধিদফতর দেখবে। উনারা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছে। আমাদের কাছে পাঠালে তদন্ত করে রিপোর্ট দিব।’

Topics