বেনাপোল বন্দরে শাড়ি, থ্রি-পিসের চালান আটক

চালানটিতে ২৬০ প্যাকেজের স্থলে ২৬৭ প্যাকেজ মাল পাওয়া যায় এবং সিন্থেটিক ফেব্রিক্স ঘোষণার আড়ালে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস পাওয়া যায়।

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

Location :

Jashore
বেনাপোল স্থলবন্দর, (ডানে) আটককৃত ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস
বেনাপোল স্থলবন্দর, (ডানে) আটককৃত ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস |নয়া দিগন্ত

সিন্থেটিক ফেব্রিক্সের চালান আমদানির কথা বলে শাড়ি ও থ্রি-পিসের চালান আমদানি করায় তা আটক করেছে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

পণ্যটির আমদানিকারক ছিল ঢাকাস্থ্য ‘নুসরাত ট্রেডিং’ এবং বেনাপোল কাস্টমস থেকে মালামাল ছাড়নোর কাজে নিয়োজিত ছিল খাজা এন্টারপ্রাইজ নামে এক সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট। তবে এই সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্টের বিল অব এন্ট্রি পেপার ভাড়া নিয়ে কাস্টমস থেকে পণ্য ছাড়ানোর কাজ করছিল ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তি।

রোববার (৪ এপ্রিল) বিকেলে বন্দরের ১৯ নম্বর সেড থেকে পণ্য চালানটি আটক করা হয়।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাস্থ ‘নুসরাত ট্রেডিং’ নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শনিবার (৪ এপ্রিল) ভারত থেকে ২৬০ প্যাকেজের সিন্থেটিক ফেব্রিক্সের একটি চালান আমদানি করে। আমদানিকৃত পণ্যটি বন্দরের ১৯ নম্বর সেডে রাখা‌ হয়।

গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়, পণ্য চালানে সিন্থেটিক ফেব্রিক্সের আড়ালে ঘোষণা বহির্ভূত বিপুল পরিমাণে শাড়ি আমদানি করা হয়েছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দরের ১৯ নম্বর সেডে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় চালানটিতে ২৬০ প্যাকেজের স্থলে ২৬৭ প্যাকেজ মাল পাওয়া যায় এবং সিন্থেটিক ফেব্রিক্স ঘোষণার আড়ালে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস পাওয়া যায়। পরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করায় পণ্যটি সাময়িক আটক করা হয়। আটককৃত পণ্যটির মূল্য ৫০ লাখ টাকার অধিক হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বেনাপোল ব্যবসায়ী সূত্র জানিয়েছে, বেনাপোলে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে এ ধরনের শুল্ক ফাঁকির কাজগুলো করে আসছে। এই চালানেও সে ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে।

খাজা এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে এই কাজ করেছে ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তি। এই ইব্রাহিম দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকির সাথে জড়িত রয়েছে। আর এদেরকে সহযোগিতা করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্যরা। শুল্ক ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই ফাঁকিবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে পণ্যটিতে ঘোষণা বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ শাড়ির চালান পাওয়া গেছে। পণ্যের চালানটি সাময়িক আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বোঝা যাবে কী পরিমাণ ঘোষণা বহির্ভূত শাড়ি, থ্রি-পিস আছে বা কী পরামাণ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছিল। তবে এর সাথে যারা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।