মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় চাঁদাবাজি ও মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ৩ নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সিরাজদিখান-গোডাউন বাজার সড়কের লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘চাঁদাবাজি চলবে না’, ‘চাঁদাবাজের ঠাঁই নাই’, ‘চাঁদাবাজের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় সিরাজদিখান থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মানববন্ধনকারীদের সাথে কথা বলে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত করতে সহায়তা করে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী নুর হোসেন এবং লতব্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান স্থানীয় ইটভাটা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছেন।
তাদের দাবি, চলতি মৌসুমে ব্যবসা শুরু করতে গেলে প্রথমে মাটিকাটা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং পরে আব্দুল্লাহপুরে এম হায়দার আলীর কার্যালয়ে ডেকে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
বক্তারা আরো জানান, ব্যবসায়ীরা সমঝোতার ভিত্তিতে ২৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হন এবং এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা পরিশোধও করেন। তবে বাকি টাকার জন্য নিয়মিত ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এমনকি টাকা না দিলে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন বরাদ্দ ও ত্রাণসামগ্রীও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এতে তারা জনগণের কাছে জবাবদিহিতায় পড়ছেন এবং সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করতে পারছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস ও অবৈধ মাটিকাটার বিরুদ্ধে আমার অবস্থানের কারণে একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মানববন্ধনে উত্থাপিত কোনো অভিযোগই সত্য নয়।’



