বদলগাছী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের অবসান

কিছুদিন আগে এ কলেজে দুই শিক্ষক অধ্যক্ষ পদ দাবি করায় প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে এমামুল হক আইনগত বৈধতা নিয়েই অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

Location :

Naogaon
বদলগাছী মহিলা কলেজ
বদলগাছী মহিলা কলেজ |নয়া দিগন্ত

বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতা

নওগাঁর বদলগাছী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পদ নিয়ে দুই শিক্ষকের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে। বর্তমানে এক অধ্যক্ষের অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে এ কলেজ।

কিছুদিন আগে এ কলেজে দুই শিক্ষক অধ্যক্ষ পদ দাবি করায় প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে এমামুল হক আইনগত বৈধতা নিয়েই অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

কলেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নওগাঁ-৩ আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল উপজেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার পরপরই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বদলগাছী মহিলা কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হন। সেই সময় কলেজের সভাপতি লুৎফর রহমান হজ্জ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। তার অনুপস্থিতির সুযোগে অন্যায়ভাবে কমিটি বাতিল দেখিয়ে ফজলে হুদা বাবুল নিজেকে সভাপতি ঘোষণা করে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন। পরে নতুন অ্যাডহক কমিটির বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী সুবিধাভোগী শিক্ষক মাহবুব আলমকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠে। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করলে আইনগতভাবে সভাপতির দায়িত্বে ফিরেন লুৎফর রহমান। পরে অধ্যক্ষ পদে এনামুলকে বহাল করে লুৎফর রহমানের কমিটি।

এ বিষয়ে এনামুল হক বলেন, ‘যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আমি অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহাল হয়েছি।’

এ সময় তিনি কলেজের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কাজে মাহবুব আলম বাধা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেন।

কলেজের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অধ্যক্ষ পদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে কলেজে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুব আলম বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বা অন্য কারো মাধ্যমে বর্তমান অধ্যক্ষের কাজে কোনো ধরনের বাধা দেইনি বরং আমার পাঁচ মাসের বেতন আটকে রাখা হয়েছে।’

এ সময় তিনি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এমামুল হকের নিয়োগ অবৈধ বলেও দাবি করেন।

বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ আইনগত বৈধতার ভিত্তিতেই অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি।’