পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

খননের পাশাপাশি দখল হওয়া খাল উদ্ধার করবে সরকার

রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেন দুর্নীতি না থাকতে পারে সেজন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বিএনপি।

মনিরুজ্জামান সুমন, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)

Location :

Chuadanga
খাল কাটা কর্মসূচির উদ্বোধনে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি
খাল কাটা কর্মসূচির উদ্বোধনে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি |নয়া দিগন্ত

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘সারাদেশে খাল খনন শুরু হয়েছে, টেন্ডারও হয়েছে। এমনিক কাজের ধারাবাহিকতায় দখল হয়ে যাওয়া খালের জায়গা উদ্ধার করবে সরকার।’

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ৩টায় আলমডাঙ্গার বেলগাছি ইউনিয়নের ইছেরদাড়ি খালের মাটি কেটে খনন কর্মসূচির উদ্বোধনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর থেকে যত সরকারই এসেছে সবার প্রশ্ন ও চাহিদা ছিল খাল খনন নিয়ে। খনন না হওয়ার কারণে পলি জমে ভরাট হয়েছে অনেক জায়গা, দখল করে মাছ চাষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি গড়ে উঠেছে, এমনকি চুয়াডাঙ্গায় সরকারি স্থাপনাও গড়ে উঠেছে। খালের জায়গা জনগণের। এই খালের জায়গা নিতে হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া কাগজে কলমে কেউ নিতে পারে না। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে সেসবও হয়েছে। দখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধারে সরকারের করণীয় আছে।’

পানিসম্পদ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিলাম, সবাই এক ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকায় অবতীর্ণ ছিলাম। আজ সংসদ চলছে। সংসদে বিরোধী দল তাদের কথা বলছে, সরকারি দল তার উত্তর দিচ্ছে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সরকারি দল এবং বিরোধী দল যদি কোনো কারণে অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় তাহলে সংসদে মারামারি শুরু হয়ে যাবে। এজন্য মাঠ পর্যায় থেকে খুব সজাগ থাকতে হবে। প্রতি বাক্য, কথা ও কাজে স্বচ্ছ থাকতে হবে।’

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের প্রথম কেবিনেট সভায় সারা বাংলাদেশের কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। বিএনপি সরকার শুধু খাল খনন না, এর পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড, সবার জন্য স্বাস্থ্য, সবার জন্য শিক্ষা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমরা মেগা প্রজেক্ট করে শুধু শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবো আর গ্রামের মানুষ উন্নয়ন পাবে না সে নীতিতে বিশ্বাসী না। যারা এই নীতিতে বিশ্বাসী তারা হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে এবং শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বিএনপি। রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেন দুর্নীতি না থাকতে পারে সেখানে আমরা পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি।’

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শরীফুজ্জামান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পশ্চিমাঞ্চল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ, জিকে সেচের প্রকল্প পরিচালক জাহেদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা: হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী, মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও খাল খননের ঠিকাদার হেমন্ত কুমার সিংহ রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়নের বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ।