খুলনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাইভেট হাসপাতাল খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাতের আগুনের পর সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে বৈষয়িক ক্ষয়ক্ষতি হলেও জানমালের কোনো ক্ষতি হয়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূচনা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে হাসপাতালের মালিক পক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর পর্যন্ত আগুনের রহস্য উন্মোচনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ বা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। শুধু পুলিশের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হলে ফায়ার সার্ভিস আধাঘণ্টা পর হাসপাতালে পৌঁছে নেভানোর কাজ শুরু করে। ঘণ্টা দু’য়েকের চেষ্টায় আগুন নেভানো হয়। তারপর উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি শেষ হয়েছে ফজরের সময়। আগুনের ঘটনায় সাতজন অগ্নি নির্বাপন কর্মী সামান্য আহত হয়েছেন। হাসপাতালে থাকা ২৫০ জনেরও বেশী রোগীকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় । গতকাল সকাল থেকে হাসপাতালে প্রবেশের মূল ফটকের পাশে রোগীদের ফেলে যাওয়া মালামাল ও ট্রিটমেন্ট স্লিপ হস্তান্তর করে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালের বেজমেন্ট থেকে রাতে আগুনের সূচনা হয়। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে জেনারেটরের কক্ষ। আর বেজমেন্টে রয়েছে অক্সিজেন প্লান্ট। আগুনের কারণ উদঘাটন করতে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দু’টি অক্সিজেন প্লান্ট, দু’টি জেনারেটর, কিছু মেডিসিন, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলতে পারেননি তবে নিরূপণের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, খুলনায় হার্টসহ জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে এ প্রাইভেট হাসপাতালটিতে। সরকারি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ছেড়ে রোগীদের সেখানে আসার নজির রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালটিতে বিকল্প জরুরি নির্গমন পথ না থাকায় আগুন লাগার পর রোগী ও অ্যাটেনডেন্টদের বের হওয়া নিয়ে আতঙ্ক তৈরী হয়। তবে আগুন মারাত্মক না হওয়ায় প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।



