নির্বাচনোত্তর সহিংসতা

বড়াইগ্রামে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১০, বাড়ি-দোকান ভাঙচুর

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ইউনিয়ন জামায়াতের আমীরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১২টি বাড়ি ও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা

Location :

Baraigram
বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি কর্মীদের ভাঙচুর করা এক জামায়াত কর্মীর বাড়ি
বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি কর্মীদের ভাঙচুর করা এক জামায়াত কর্মীর বাড়ি |নয়া দিগন্ত

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ইউনিয়ন জামায়াতের আমীরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১২টি বাড়ি ও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ( ১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাকিব ও সাব্বিরকে মারধরের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাজারে আপস-মীমাংসার লক্ষ্যে উভয় পক্ষের নেতাদের ডাকা হয়। সকাল ১০টার দিকে উভয় দলের সমর্থকরা বাজারে এলে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসিনুর রহমান, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আসাব সরকার, জামায়াত কর্মী রফিকুল ইসলাম, সাকিব, সাব্বির, ইব্রাহীম খলিল সৈয়দ, মনির হোসেন, সাইদুল ইসলাম এবং জসিম উদ্দিনের স্ত্রী নাজমা বেগমসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

গুরুতর আহত হাসিনুর রহমানসহ দুজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের পর ধানাইদহ গ্রামের জামায়াত কর্মী সানোয়ার হোসেন, ইব্রাহীম খলিল সৈয়দ, আব্দুস সোবহান, সিরাজুল ইসলাম, আল আমিন, মোজাম্মেল হোসেন, মনোয়ার হোসেন, জনাব আলী ও জসিম উদ্দিনের বাড়ি এবং ধানাইদহ বাজারে ইব্রাহীম খলিল সৈয়দের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর দায়ীদের গ্রেফতার ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে উপজেলা জামায়াত সংবাদ সম্মেলন করেছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা সভাপতি মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

বড়াইগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বলেন, “নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়েছে। এখন দেশ গঠনে মনোযোগ না দিয়ে ভিন্নমতের মানুষের ওপর হামলা-নির্যাতন কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে।