বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, হাজার হাজার মানুষের রক্ত ও অসংখ্য মানুষের গুম-খুন-পঙ্গুত্বের বিনিময়ে পাওয়া সংবিধান সংস্কার আদেশ বাতিলের মাধ্যমে বিএনপি ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা ৫১ ভাগ ভোট পেয়ে ৭০ ভাগ ভোটে বিজয়ী গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করতে চায়। তাই আধিপত্যবাদ থেকে যারা বেরিয়ে আসতে চায়, সেই ১১ দলীয় জোট প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী করে বিরোধীদলের হাতকে শক্তিশালী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে ৩৩টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ ৯ মাস আলোচনা করে জুলাই সনদ প্রণয়ন করে। এ সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজন করে অন্তর্বর্তী সরকার। ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নির্বাচিতরা একই সাথে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এজন্য প্রত্যেক সংসদ সদস্যের দুটি শপথ গ্রহণ করার কথা। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ আসন লাভের পর বিএনপি সব ভুলে গেছে।
তিনি আরো বলেন, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। এখন তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বিরোধিতা করছে। তারা সংবিধান সংস্কার আদেশ বাতিলের জন্য সংসদে মুলতবি প্রস্তাব করেছে। একই আদেশে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন মেনে সরকার গঠন করলেও গণভোট মানছে না। এর মাধ্যমে বিএনপি পুরো জাতির সাথে প্রতারণা করছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রায় পাঁচ কোটি ভোটার গণভোটে হ্যাঁর পক্ষে রায় দিয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি এ জ্বালা সহ্য করতে না পেরে গণভোট বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে। একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের জন্য যেসব সংস্কার প্রয়োজন, বিএনপি সেই সব সংস্কার প্রস্তাব বাতিল করতে চায়। এর মাধ্যমে তারা ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকেই ধাবিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।
বগুড়ার উপনির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে তিনি বগুড়া প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারি দলের প্রার্থীর লোকেরা জামায়াতের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মিলছে না। আমরা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকাকে আপনারা আরেকটি মাগুরা বানানোর অপচেষ্টা চালাবেন না।
তিনি আসন্ন উপনির্বাচনে একটি সমৃদ্ধ বগুড়া গড়তে জামায়াতের প্রার্থীকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে বগুড়াবাসীর প্রতি উদাত্ব আহ্বান জানান।
শহর জামায়াতের আমির ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে মুনাফেকি করেছে। সরকার গঠনের মাত্র দেড় মাসে স্বৈরাচার সরকারের যতগুলো গুণাবলি থাকে সব অর্জন করেছে। তারা ভোট ছাড়াই স্থানীয় সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসিয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কার চায় না বলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিল করছে। ম্যানেজ ভোটের সরকার ভারতের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগের অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
অনুষ্ঠানে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর ১৪ দফা ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা পাঠ করে শোনান।
সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি গোলাম রব্বানী ও বগুড়া জেলা আমির অধ্যক্ষ আব্দুল হক সরকার, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সৈযদ আব্দুল আজিজ, আব্দুল মালেক, আব্দুল হাকিম সরকার, নুর মোহাম্মাদ আবু তাহের, রফিকুল আলম, ইকবাল হোসেন, শাহীন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



