আমার জীবনে এটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা

ভোটার হওয়ার পর একবার আমার ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রে যেতে পারিনি। এবারের আগ্রহটা একটু বেশি। ভেবেছিলাম সিরিয়ালে সমস্যা হবে, সে কারণে সাতটায় ভোটকেন্দ্রে এসেছি। দুটো ভোট দিয়েছি।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন এক নারী
রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন এক নারী |নয়া দিগন্ত

"ভোটার হওয়ার পর একবার আমার ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রে যেতে পারিনি। এবারের আগ্রহটা একটু বেশি। ভেবেছিলাম সিরিয়ালে সমস্যা হবে, সে কারণে সাতটায় ভোটকেন্দ্রে এসেছি। দুটো ভোট দিয়েছি। যদিও আমার মতে খুব যোগ্য প্রার্থী এখানে নেই। তারপরেও যাকে ভালো মনে হয়েছে তাকে ভোট দিয়েছি। সঙ্গে গণভোটও দিয়েছি। আমার জীবনে এটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা।"

রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভোট দেয়ার পর এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী রওজা।

এই কেন্দ্রে আরো ভোট দিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোস্তফা চৌধুরী বাবু। তিনি বললেন, "বিগত সময়গুলোতে ভোট দেওয়া নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কা ছিল। এবার শেষ, সে জন্য সাত সকালে এসেই ভোট দিলাম। আশা করি এবারের ভোটের মাধ্যমে পুরনো বন্দোবস্তের বদলে নতুন বন্দোবস্তের বাংলাদেশ হবে। একসঙ্গে অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে।"

রংপুর-৩ আসনের মহানগরীর এই কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক ভোটার নেই। তবে বাড়তে শুরু করেছে ভোটার। মহিলা এবং পুরুষ বুথগুলোতে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট প্রদান কার্যক্রম চলছে।

এই কেন্দ্রটিতে তুরপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও ভোট পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।

রংপুর রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রেঞ্জের আট জেলার ৩৩ আসনের ৬২ থানা, ৫৮ উপজেলা, ৩১টি পৌরসভা ও ৫৩৫টি ইউনিয়ন এবং ১টি সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৮০ হাজার ১২১ জন বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর রেঞ্জের আওতাধীন ৩২টি আসনে ৪ হাজার ৫৪৬টি কেন্দ্রে ৭ হাজার ৪১৭ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৫৬টি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৪ হাজার ৩৩৫ জন এবং সাধারণ ২ হাজার ১৯০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৮২ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও ৪৬৪টি মোবাইল টিমে ২ হাজার ৯৭ জন, ১০৫টি স্ট্রাইকিং টিমে ৬৭৫ জন, ২৮টি স্ট্যান্ডবাই টিমে ২৮০ জন এবং অন্যান্য বডি অন ক্যামেরা, কুইক মেডিকেল টিম, কন্ট্রোল রুমসহ বিভিন্ন ডিউটিতে ১ হাজার ৮৬৩ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রেঞ্জের আওতায় পুলিশ মোতায়েনের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৩২ জন।

সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সূত্র জানিয়েছেন, বিভাগের ৩৩টি আসনে ৬ হাজার ৪১৩ জন সেনাবাহিনী, ৩ হাজার ৪৬২ জন বিজিবি, ৭৮১ জন ব্যাটালিয়ন আনসার, ৫৫ হাজার ২৩৮ জন অঙ্গীভূত আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। রেঞ্জে সর্বমোট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে রংপুর মহানগর পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, মহানগর অর্থাৎ রংপুর-৩ আসনে ২০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৪৮৪ জন, সাধারণ ৮৬টি কেন্দ্রে ২৪৯ জন, ৩০টি মোবাইল টিমে ১৫০ জন, ১৬টি স্ট্রাইকিং টিমে ৮০ জন, ১৩টি স্ট্যান্ডবাই টিমে ১৫০ জন, কিউআরটি, বডি অন ক্যামেরাসহ বিভিন্ন টিমে আরো ৬৯৫ জন—মোট ১ হাজার ৪০৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, বিভাগের ৩৩টি আসনে ২৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র পদে ৩৩ জন। বাকি সবাই ২৯টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। এর মধ্যে ৮ জন নারী রয়েছেন। বিএনপি ১টি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছে। আর জামায়াত ছেড়ে দিয়েছে ৩টি আসন এনসিপিকে।

৩৩টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে আছেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে দিনাজপুর এবং গাইবান্ধায় ২ বিদ্রোহী প্রার্থীই ভোটের মাঠে এগিয়ে আছেন। বাকি ৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির জন্য কোনো প্রভাব ফেলবে না।

এবার এই বিভাগে মোট ভোটার ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৯৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৩ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ জন এবং নারী ৭৮ লাখ ১০ হাজার ১৯ জন।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, "আমাদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম প্রস্তুতির ঘাটতি নেই। পুলিশ পূর্ণাঙ্গ পেশাদারিত্ব নিয়ে মাঠে থাকবে। ভোটকে উৎসবমুখর এবং ঈদের আনন্দের মতো নিশ্চিত করার জন্য যা করা দরকার সব করা হবে।"

রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি ব্রাঞ্চ সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে জিরো টলারেন্সে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। ভোটে যারাই ব্যাঘাত তৈরির চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে মাঠে থাকবে। বডি অন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে মাঠ থেকে একেবারে কমিশন পর্যন্ত মনিটরিং হবে। কেউ অরাজকতা করতে চাইলে পার পাবে না।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, "আমাদের যে প্রস্তুতি আছে তাতে আমরা নিশ্চিত, বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎসবমুখর পরিবেশে গণভোট ও সংসদের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।”