রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় লাল চাঁদ ওরফে মো: সোহাগ (৩৯) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে, কুপিয়ে ও পাথর দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে হত্যার ঘটনায় পরিবারের চোখের অশ্রু আর আহাজারিতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে বরগুনা।
শনিবার (১২ জুলাই) এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে সকাল ১১টার দিকে শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ ঘটনায় যেভাবে অপরাধীরা প্রকাশ্যে সোহাগকে হত্যা করেছে, ঠিক তেমনি জড়িত খুনিদের প্রকাশ্যে বিচার করার দাবি জেলাবাসীর।
কে এই নিহত সোহাগ?
একজন সফল ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ। দীর্ঘদিন পুরান ঢাকায় ব্যবসা করে আসছেন। চাঁদাবাজদের টাকা দিতে অস্বীকৃতি করলে জীবন দিতে হয়েছে তাকে। বরগুনা জেলার সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বান্দর গাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি যুবদলকর্মী ছিলেন। নিহত সোহাগের মেয়ে সোহানা (১৪) ষষ্ঠ ও ছেলে সোহান (১১) চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীসহ স্ত্রী ও শাশুড়ি আছেন বলে জানা গেছে।
ভাঙারি ব্যবসায় সফল সোহাগ :
লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ দীর্ঘ বছর ধরে ভাঙারি ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। অনেক পরিশ্রম করতেন। তাই এ ব্যবসায় তিনি সচ্ছলতার মুখ দেখেন। নিহত সোহাগ একসময় পলাশ নামে একজনের অধীনে ভাঙারির কাজ করতেন। গত চার-পাঁচ বছর আগে সোহাগ চাকরি ছেড়ে আলাদা ভাঙারি ব্যবসা শুরু করেন।
এ সময় মহিন নামের একজনের সাথে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়। সেই থেকে মাঝে মধ্যে এ মহিন বন্ধুর বাসায় তার আসা যাওয়া। এমনকি যখন যেতেন তখন খাওয়া-দাওয়া করতেন। সর্বশেষ কিছুদিন ধরে নিহত সোহাগের ভাঙারি ব্যবসার অর্ধেক ভাগ দাবি করে আসছিল মহিন। স্থানীয় যুবদল নেতা পরিচয় দেয়া মহিনের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে জীবন দিয়ে পরপারে চলে যান সোহাগ।
ক্ষমতা ও টাকার লোভে ধীরে ধীরে বিবেক ও মানবতা হারিয়ে গেছে। পাথরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যখন মৃত্যুর যন্ত্রণায় ছটফট করে, তখন লাশের উপর উল্লাস আর মুখের উপর বিশ্রী আঘাত, আহা। এমন নির্মম দৃশ্য দেখলে মনে হয় জাহিলিয়াত যুগকেও মার মানাবে এই বর্বরতা।



