বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা, সর্বস্বান্ত ৮ পরিবার

সৌদি আরবে রেস্তোরাঁয় ভালো বেতনের ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বিদেশে নেয়ার পর তারা কথা না রেখে উল্টো নির্যাতন চালায়।

Location :

Chattogram
সর্বস্বান্ত ৮ পরিবার
সর্বস্বান্ত ৮ পরিবার |নয়া দিগন্ত

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার আট যুবককে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসা ও রেস্তোরাঁয় চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎয়ের অভিযোগ ওঠেছে আজম খান ও তার ছেলে আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগী আট যুবকের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেন।

অভিযুক্তরা বাঁশখালীর সাধনপুর ইউপির রাতা গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী মো: রায়হানের বোন আয়েশা ছিদ্দিকা রিনা বাঁশখালীর ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ দাতা আয়েশা ছিদ্দিকা রিনা বলেন, ‘সৌদি আরবে রেস্তোরাঁয় ভালো বেতনের ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে আমার ভাইকে নিয়ে যায় আজম খান ও তার ছেলে আবদুল জলিল। কিন্তু বিদেশে নেয়ার পর তারা কথা তো রাখেনি উল্টো নানাভাবে আমার ভাইয়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। শারীরিক নির্যাতন থেকে বাঁচাতে তিন ধাপে নয় লাখ টাকা পাঠানোর পর গত ৮ জুলাই আমার ভাইকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। আমরা সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচারটা চাই।’

একইভাবে অভিযোগ করেন সাধনপুর ইউপির মো: ফোরকান, মো: বখতেয়ার, হুমায়ুন, মো: সিয়াম উদ্দিন, আনোয়ারা উপজেলার ইফতাহাদুল ইসলাম, সাতকানিয়া উপজেলার মো: তারেক ও রাউজান উপজেলার মো: তাসবিরের স্বজনরা। এর মধ্যে মো: ফোরকান প্রায় বিশ দিন ধরে সৌদি আরবে নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

তবে অভিযুক্ত আব্দুল জলিল সৌদি আরব থেকে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তায় বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান (সালাহউদ্দিন কামাল) আঙ্কেলের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানা যাবে।’

বাঁশখালীর সাধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান কে এম সালাহউদ্দিন কামাল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর নির্দেশনায় উভয়পক্ষের সাথে বসেছিলাম। ভুক্তভোগীদেরকে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে দুই লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।’

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, ‘সৌদি আরবের ভিসা দিয়ে কয়েকজন যুবককে প্রবাসে নিয়ে গিয়ে প্রতারণাসহ নির্যাতনের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটির ব্যাপারে সাধনপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’