দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে টনক নড়েছে পল্লী বিদ্যুতের, দোয়ারাবাজারে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের চাইরগাঁও গ্রামে দু’মাস ধরে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা পল্লী বিদ্যুতের চারটি খুঁটি মেরামতের মাধ্যমে সচল করা হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় সরেজমিনে দেখা গেছে, দোয়ারাবাজার উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম আব্দুর রশিদের তত্ত্বাবধানে ১০ থেকে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি টেকনিশিয়ান টিম দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা কাজ করে বিদ্যুতের খুঁটি পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে এই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করে।
এর আগে, বুধবার ‘বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি’ শিরোনামে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় প্রিন্ট ভার্সনে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি প্রকাশের পরই টনক নড়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের।
প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, দোয়ারাবাজার উপজেলার চাইরগাঁও গ্রামে গত দু’মাস ধরে পল্লী বিদ্যুতের চারটি খুঁটি আবাদি জমির ওপর হেলে ছিল। খুঁটিগুলো বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গত সোমবার দু’টি খুঁটি ভেঙে সরাসরি ধানের জমিতে পড়ে গেছে। এতে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ আতঙ্কে রয়েছেন কৃষক ও পথচারীরা।
এদিকে দোয়ারাবাজার পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, দোয়ারাবাজারে পল্লী বিদ্যুতের উদাসীনতায় ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলাবাসী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে। বাকি সময়েও ক্ষণিকের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে তুলছে।
দিন-রাতে মিলিয়ে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা টানা বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এখানে। কখনো বিদ্যুৎ এলেও তা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। ফলে ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য সবখানেই বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে চলমান এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা।



