পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সবুজ বনায়নে অবৈধভাবে নিয়ম-নীতির তক্কা না করে বনায়নের ছোট ছোট খালে বাঁধ ও বিষ প্রয়োগে করে মাছ শিকার করছেন অসাধু মৎস্য শিকারিরা আর সেই পানি পান করে মারা যাচ্ছে গবাদি পশু। দেখেও না দেখার ভান করছেন বন কর্মকর্তা।
রাঙ্গাবালী একটি দ্বীপ উপজেলা এর চারপাশে নদী বেষ্টিত। নদীর পাড়ে সৌন্দর্য ঘেরা সবুজ বনায়ন প্রভাবশালীদের খপ্পরে নষ্ট হচ্ছে সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ বনায়ন ও বিষ প্রয়োগে বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও হাজারো প্রজাতির জলজ প্রাণী। বনায়নের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট খাল। এই খালগুলোর সংযোগ নদীর সাথে। খালগুলোতে জোয়ার ভাটার পানি আসা-যাওয়ার কারণে এর সাথে উঠে আসে নানান প্রজাতির মাছ।
এখানকার ৮০% মানুষই কৃষক ও জেলে। এখানকার মানুষ মাছ ধরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে ।
স্থানীয়দের দাবি, মাছধরা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন মানুষ লিজ নামক অস্ত্র ব্যবহার করে বাগানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না জেলেদেরকে। লাখ লাখ টাকা নিয়ে প্রভাবশালীদেরকে দেয়া হয় মৌখিক অনুমতি। মৌখিক অনুমতিতেই দখল করে নেয় সবুজ বনয়নের খাল ও চর। প্রভাবশালী চক্র ও বন কর্মকর্তারা মিলে এসব ভাগবাটোয়ারা করেন।
মনজুর রহমান মৃধা বলেন, ‘এলাকার চর মাদারবুনিয়ার বনে আমি ১৯টি মহিষ লালন-পালন করি। বনের মধ্যে ছোট ছোট খালে বাঁধ দিয়ে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করেন প্রভাবশালীরা, এতে করে বাঁধে আটকে পরে একটি মহিষ জোয়ার পানিতে ডুবে গত ২১ জুলাই রাতে আমার প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি মহিষ মারা যায়।’
একই সাথে তার আরো তিনটি ছোট মহিষ নিখোঁজ রয়েছে, অনেক সময় বিষাক্ত পানি পান করে অনেক গরু মহিষ মারা জায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
জসিম মিয়া বলেন, ‘বনের ভেতরের ছোট ছোট খালগুলোতে প্রভাবশালী একটি চক্র বাঁধ নির্মাণ করে মাছ শিকার করছে। এতে খালে জোয়ারের পানি আটকে গিয়ে মহিষের মৃত্যু হচ্ছে। ছোট খালগুলোতে বাঁধ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিষ প্রয়োগ করলে বাচ্চা মহিষ ও গরু মারা যায় এবং গাভীন মহিষ বাচ্চা ফেলে দেয়। আমরা বারবার অভিযোগ করেও এর কোনো প্রতিকার পাইনি।’
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি বন ধ্বংস করে বনের গাছ কেটে বাঁধ নির্মাণের ঘটনায় বন বিভাগের ব্যাপক অনিয়ম দেখা গেলেও তারা এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বন বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে একটি মহিষে ৫০০ টাকা দিতে হয়, টাকা দেয়ার পরও আমরা কেনো মহিষকে বিষাক্ত পানি খাওয়াবো।
নাম না বলার শর্তে একজন মহিলা বলেন, বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করার কারণে খাবার অনুপযোগী ছোট মাছ গুলো মারা যায়। প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় মন মরা গুড়া মাছ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়।
সোনারচরে মছ শিকার কারি কয়েকজন জেলে অভিযোগ করে বলেন, বন বিভাগ টাকার বিনিময়ে এ ধরনের খাল ও চর ইজারা দেয় প্রভাবশালীদের কাছে। এতে প্রকৃত জেলেরা মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হয়, বনের মধ্যে খালের বাঁধ দিয়ে বিষ প্রয়োগের এই প্রবণতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরো অনেক মহিষের মৃত্যু হবে। প্রতি বছরই এ ধরনের মহিষ ও গরুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ তাদের।
বাধ নির্মাণকারী ওহাব মাদবার বলেন, ‘যেই বাঁধে মহিষ মারা গেছে সেই বাদ আমি দেইনি অন্য একটি খালে বাদ দিয়েছি। এই বাঁধ দিয়েছে সুমন।’
কে বাগান লিজ দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার কাজীসহ অন্যান্য নেতারা তারা আমাদের কাছে বাগান বিক্রি করেছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বেক্তি বলেন, রাঙ্গাবালী সদর বিট কর্মকর্তার কাছ থেকে আমরা ৫০ হাজার টাকায় বাগান লিজ নিয়েছি। তিনি আমাদেরকে কোন কাগজপত্র দেননি মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন। কাগজপত্র চাইলে বিট কর্মকর্তা বলেন আইনগতভাবে কোনো কাগজ দেয়া যায় না। আপনাদেরকে কেউ সমস্যা করলে আমি দেখব। মহিষ মরার ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাগান আমরা বিক্রি করে দিয়েছি ওখানে কে কি করে আমরা জানি না।
রাঙ্গাবালী সদর বিট কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, ‘বাগানে মহিষ মরার ব্যাপারটি আমি জেনেছি। বাগান কারো কাছে আমরা লিজ দেইনি। বাগানে যে বাঁধ দেয়া হয়েছে সেগুলো দুই এক দিনের মধ্যে আমি কেটে দেবো এবং বাগানের গাছ কেটে যারা বাধ নির্মাণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইন আনুক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
সোনারচরের বিট কর্মকর্তার কাছে বন ইজারার ব্যাপারে জানতে চাইলে সে পারিবারিক কাজে বড়িতে আছেন তিন চার দিন পরে আসবেন বলে ফোন কেটে দেন।



