ছাপ্পান্নর রেকর্ড অনুযায়ী নগরীর ছড়া-খাল উদ্ধার করা হবে : সিসিক প্রশাসক

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সিলেট সিটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন ছড়া ও খাল পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সিলেট সিটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন ছড়া ও খাল পরিদর্শন করেন সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী
সিলেট সিটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন ছড়া ও খাল পরিদর্শন করেন সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী |নয়া দিগন্ত

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির কারণে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। কেউ ছড়া বা খাল দখল করে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি জানান, ১৯৫৬ সালের রেকর্ড অনুযায়ী নগরীর ছড়া-খাল উদ্ধার করা হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সিলেট সিটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন ছড়া ও খাল পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সকালে সিসিক প্রশাসক ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভরা ছড়া এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ছড়ার বিভিন্ন অংশ দখল করে স্থাপনা গড়ে উঠতে দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একইসাথে সংশ্লিষ্টদের নিজ উদ্যোগে এসব স্থাপনা অপসারণের অনুরোধ জানান।

সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন দিন-রাত কাজ করছে। এ কাজে জনগণের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অথচ কেউ কেউ ছড়া দখল করে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষের কারণে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। অবিলম্বে সার্ভে করে ছাপ্পান্নর রেকর্ড অনুযায়ী নগরীর ছড়া ও খাল উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে নগরীর সব ওয়ার্ডে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে চাই। এ কাজে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। কেউ উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তা সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ সময় সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো: দেলোয়ার হোসেন নাদিম, সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী ইসমাইলুর রহমান, সেলিম আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে টিলা কাটা বন্ধের আহ্বান

এর আগে সিসিক প্রশাসক ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। ওয়ার্ডের কয়েকটি স্থানে অবৈধভাবে টিলা কেটে প্লট তৈরির অভিযোগ পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি টিলা কাটা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এ বিষয়ে এলাকাবাসীকে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ করেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘টিলা কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অবৈধভাবে টিলা কাটার কারণে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। একইসাথে টিলা কাটার মাটি ড্রেনে পড়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ ও নগরীর স্বার্থে টিলা কাটা বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে এখনই সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।’

এ সময় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সালেক আহমদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।