শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ

বরিশালের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা অবরোধে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লার বাসের যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

Location :

Barishal

বরিশাল ব্যুরো
ছয় দফা দাবিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্রে ভুল ও অতিরিক্ত কঠিন প্রশ্ন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতির প্রতিবাদে মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বরিশালের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা অবরোধে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লার বাসের যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

জরুরি চিকিৎসার জন্য ঢাকাগামী এক যাত্রী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, সড়ক অবরোধের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আটকে আছেন। আন্দোলনের যৌক্তিকতা থাকলেও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ব্যবসায়ী যতীন কর্মকার বলেন, পরীক্ষাসংক্রান্ত সমস্যার জন্য সাধারণ মানুষ দায়ী নয়। সড়ক অবরোধে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। এ ধরনের কর্মসূচির বিষয়ে নীতিমালা থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা নেয়ায় অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। কারো প্রবেশপত্র বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে, আবার কেউ পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র ও হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে ভুল এবং প্রশ্নের মান বোর্ডের নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে কঠিন ছিল বলেও দাবি করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ও উপযুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ, বোর্ডের মান অনুযায়ী প্রশ্ন প্রণয়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া অথবা গ্রেস মার্ক দিয়ে মূল্যায়ন, যৌক্তিক কারণে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার সুযোগ, ফল প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা এবং শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি ও প্রয়োজনে পদত্যাগ।

হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী আলিফ হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দেয়া হয়নি এবং কিছু প্রশ্ন সিলেবাসের বাইরের ছিল। একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হলেও এক বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত রেখে অন্য বোর্ডে পরীক্ষা নেয়া বৈষম্যমূলক বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার পদত্যাগেরও দাবি জানান এ শিক্ষার্থী।

কর্মসূচি চলাকালে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।