চাঁদপুরে লঞ্চে সন্তান প্রসব, নবজাতকের জন্য আজীবন ফ্রি যাতায়াত ঘোষণা

লঞ্চ কোম্পানির মালিক আবুল ও মাহবুব নবজাতকের জন্য ৫ হাজার টাকা উপহার দেন এবং শিশুটির জন্য আজীবন বিনামূল্যে লঞ্চে যাতায়াতের ঘোষণা দেন। এ উপলক্ষে লঞ্চে মিলাদের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

চাঁদপুর প্রতিনিধি

Location :

Chandpur
চাঁদপুরে লঞ্চে জন্ম নেয়া নবজাতক
চাঁদপুরে লঞ্চে জন্ম নেয়া নবজাতক |নয়া দিগন্ত

চাঁদপুরগামী এমভি হাশিমপুর লঞ্চে এক প্রসূতি নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এ ঘটনায় আনন্দিত হয়ে নবজাতকের জন্য আজীবন বিনামূল্যে লঞ্চে যাতায়াতের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে মতলব উত্তর একলাশপুর থেকে চাঁদপুর আসার পথে মেঘনা নদীতে এক প্রসূতি নারী সন্তান প্রসব করেন। যাত্রীদের সহায়তায় লঞ্চের ভেতরেই নিরাপদে কন্যাসন্তানটির জন্ম হয়।

লঞ্চের চাঁদপুর ঘাট সুপারভাইজার মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা এমভি হাশিমপুর লঞ্চটি মোহনপুরের একলাশপুর ঘাটে ভিড়লে মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের মেঘনার পশ্চিমপাড় চিরারচর গ্রামের আল আমিন প্রধানিয়ার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (৩২) প্রসব বেদনা নিয়ে চাঁদপুর হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চে ওঠেন।

লঞ্চটি চাঁদপুরের কাছাকাছি পৌঁছালে নিচতলায় বসে থাকা অবস্থায় তার প্রসব ব্যথা শুরু হয়। এ সময় লঞ্চে থাকা নারী যাত্রীরা এগিয়ে এসে সহায়তা করলে সেখানেই একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি।

পরে লঞ্চটি চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছালে ঘাট সুপারভাইজার রুহুল আমিন নৌ-পুলিশের সহায়তায় মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রসূতি ফাতেমা আক্তারের স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুর রহমান জানান, মা ও নবজাতককে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নবজাতক সুস্থ রয়েছে। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মায়ের চিকিৎসা চলছে।

লঞ্চ কোম্পানির মালিক আবুল ও মাহবুব নবজাতকের জন্য ৫ হাজার টাকা উপহার দেন এবং শিশুটির জন্য আজীবন বিনামূল্যে লঞ্চে যাতায়াতের ঘোষণা দেন। এ উপলক্ষে লঞ্চে মিলাদের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

ফাতেমা আক্তারের সাথে থাকা তার ছোট ভাই জানান, তাদের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে। মতলব উত্তর চিরারচরে বোনের শ্বশুরবাড়ি। প্রসব বেদনা শুরু হলে ট্রলারে করে মেঘনা পাড়ি দিয়ে একলাশপুর আনা হয়। পরে চাঁদপুর হাসপাতালে নেয়ার জন্য লঞ্চে ওঠেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই লঞ্চে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

তিনি আরো জানান, এটি ফাতেমা আক্তারের তৃতীয় সন্তান।