কুলিয়ারচরে নির্মাণাধীন রাস্তার কাজ বন্ধ, জনদুর্ভোগ

কাগজপত্র অনুযায়ী কাজটি শুরু করেন গত ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর। কাজটি শেষ হওয়ার কথা চলতি ২০২৬ সালের ৮ জুলাই। কাজটি তদারকি করছেন কুলিয়ারচরের মেসার্স প্রগতি এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী মো: দেলোয়ার হোসেন খোকন।

কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

Location :

Kuliarchar
কাজ বন্ধ রাস্তা
কাজ বন্ধ রাস্তা |নয়া দিগন্ত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব আব্দুল্লাহপুর থেকে পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর কাঁচা রাস্তাটি আরসিসি করণের কাজ শুরু হয়ে অর্ধেক পথে বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রাস্তাটির পূর্ব আব্দুল্লাহপুর সীমান্তে রাস্তার জায়গা দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের ফলে রাস্তার দুই সাইড দখল মুক্ত না হওয়ায় নির্মাণাধীন রাস্তার কাজ বন্ধ করে মালামাল নিয়ে চলে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে এমআরআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় দুই কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন মিটার প্রস্থের নির্মাণাধীন পূর্ব আব্দুল্লাহপুর হতে পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর রাস্তার কাজ শুরু করেন চট্রগ্রামের মেসার্স মোহাম্মদ ইউসূফ অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাগজপত্র অনুযায়ী কাজটি শুরু করেন গত ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর। কাজটি শেষ হওয়ার কথা চলতি ২০২৬ সালের ৮ জুলাই। কাজটি তদারকি করছেন কুলিয়ারচরের মেসার্স প্রগতি এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী মো: দেলোয়ার হোসেন খোকন।

দেলোয়ার জানান, কাজ শুরু করার আগেই রাস্তার দুই সাইডের অবৈধ দখলদারদেরকে রাস্তার জায়গা দখল মুক্ত করার জন্য বলা হয়। রাস্তার প্রায় ৯০ শতাং জায়গা দখল মুক্ত করে রাস্তার নির্মাণ কাজ করা হয়। শেষ পর্যায়ে পূর্ব আব্দুল্লাহপুর দক্ষিণ পাড়ায় এসে পরতে হয় বিপাকে। ওই পাড়ার মরহুম সৈয়দ আলীর ছেলে মো: নিজাম উদ্দিন (৩৫) ও মরহুম আলাল মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া ওরুফে ইশকান্দর (৩০) ও সেকান্দর (৩৫) ওই রাস্তার দুই সাইড অবৈধভাবে দখল করে ঘর নির্মাণের ফলে রাস্তাটি সুরু হয়ে যায়।

রাস্তার দুই সাইড দখল মুক্ত করার জন্য তাদেরকে বার বার তাগাদা দেয়ার পর মো: নিজাম উদ্দিন তার ঘর ভেঙে জায়গাটি দখল মুক্ত করে দেয়। কিন্ত দুলাল মিয়া ওরুফে ইশকান্দর ও সেকান্দর কোনোভাবেই জায়গাটি দখল মুক্ত করছেন না। এলাকাবাসী তাকে অনেক চাপ সৃষ্টি করেও জায়গটি দখল মুক্ত করতে পারেনি। এজন্যই রাস্তার নির্মাণ সামগ্রী রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। রাস্তা দখল মুক্ত হলেই ফের কাজ করা শুরু হবে।

স্থানীয় ইমরান খান এনায়েত, মো: দ্বীন ইসলাম, নিজাম উদ্দিন, অন্তর ভূইয়া ও নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ ধরে দুলাল মিয়া ওরুফে ইশকান্দর ও সেকান্দরকে রেকর্ডকৃত সরকারি রাস্তার জায়গা দখল মুক্ত করার জন্য বলা হলেও তারা রাস্তার জায়গাটি দখল মুক্ত করে দিচ্ছে না। বরং বিভিন্ন তাল বাহানা করে ঠিকাদারকে ঘুরাচ্ছে। এজন্য সপ্তাহখানেক আগে রাস্তার কাজ বন্ধ করে মালামাল নিয়ে চলে যায় ঠিকাদার।

অভিযুক্ত ইসকান্দর ওরুফে দুলাল ও সেকান্দরের মা মোছা: আছিয়া বেগম (৫৫) বলেন, ‘আমার ছেলেরা কেউ বাড়িতে থাকে না। আমাদের হাতে কোনো টাকা নেই, তাই ঘর ভেঙে রাস্তার জায়গা খালি করতে পারছি না। আমাদের দুই চার দিনের সময় দিলে টাকা জোগাড় করে রাস্তাটি ভেঙে দেবো।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস আর এম জি কিবরিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রাস্তার সাইট সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হওয়ার পর পরবর্তী কাজ শুরু করা হবে।’