ঠিকাদারের ২০ লাখ টাকা ক্ষতির দাবি

সাটুরিয়ায় ঘুষ না দেয়ায় কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো: ইমরুল হাসানের বিরুদ্ধে দুই শতাংশ ঘুষ না দেয়ায় একটি সড়কের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাজ বন্ধ থাকায় সিমেন্ট, বালু ও রডসহ বিপুল পরিমাণ

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Saturia
সাটুরিয়ায় ঘুষ না দেয়ায় কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ
সাটুরিয়ায় ঘুষ না দেয়ায় কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো: ইমরুল হাসানের বিরুদ্ধে দুই শতাংশ ঘুষ না দেয়ায় একটি সড়কের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাজ বন্ধ থাকায় সিমেন্ট, বালু ও রডসহ বিপুল পরিমাণ

নির্মাণসামগ্রী নষ্ট ও চুরি হয়ে হওয়ায় প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাটুরিয়ার ধানকোড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ধুল্লা ভায়া খুনিরটেক বাজার পর্যন্ত দুই হাজার মিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ পায় এস আর ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এক কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দের এ

কাজের কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদার মালামাল মজুদ করে কাজ শুরু করতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজ বন্ধ করে দেন।

ঠিকাদার মো: রুমান মিয়ার অভিযোগ, কাজ শুরুর আগে মোট বরাদ্দের দুই শতাংশ টাকা ঘুষ দাবি করেন প্রকৌশলী মো: ইমরুল হাসান। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় গত দুই মাস ধরে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সাইটে থাকা ২০০ ব্যাগ সিমেন্ট জমে নষ্ট হয়ে গেছে এবং রড, পাথর ও বালুর বড় একটি অংশ চুরি হয়ে গেছে।

স্থানীয় অন্যান্য ঠিকাদারদের অভিযোগ, এ কর্মকর্তার টেবিলে টাকা ছাড়াফাইল নড়ে না। প্রতিটি কাজ থেকে শুরুতেই এক থেকে তিন শতাংশ অগ্রিম ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে কাজে ভুল ধরা বা কার্যাদেশ দিতে দেরি করার মতো হয়রানির শিকার হতে হয়।

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর অনেক কাজ ফেলে যাওয়া আওয়ামী ঘরানার ঠিকাদারদের কাজগুলোও তিনি নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে করিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ দিকে দুর্নীতির অভিযোগে গত ৯ মার্চ প্রকৌশলী ইমরুল হাসানকে জয়পুরহাটে বদলি করা হয়েছিল। তবে রহস্যজনকভাবে মাত্র ১৫ দিনের মাথায় ২৪ মার্চ সেই আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পুনরায় সাটুরিয়াতেই বহাল রাখা হয়।

ভুক্তভোগী ঠিকাদার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী মো: ইমরুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইকবাল হোসেন জানান, কোনো প্রকল্পের কাজে ঘুষ নেয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।