আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির ৩৩তম জন্মবার্ষিকীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সেমিনারের আয়োজন করেছে স্পিক উইথ রিবেল প্রডাকশন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে ‘কলম, সংস্কৃতি ও সিংহাসন: ক্ষমতার লড়াইয়ে যুগে যুগে সাংস্কৃতিক রাজনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে ওসমান হাদির সংগ্রাম তুলে ধরা হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, এই বাংলার মানুষ কারো ওপর আগ্রাসন চালায়নি, বরং তারা নিজেদের মতো বেঁচে থাকতে চেয়েছে। কিন্তু আমাদের বেঁচে থাকাকেই আধিপত্যবাদীরা হুমকির মুখে ফেলেছে। আমাদের শত্রুরা জানে কীভাবে দমন করলে আমাদের সাংস্কৃতিকভাবে পঙ্গু বানানো যাবে। সেটা ওসমান হাদি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই তাকে আধিপত্যবাদীরা ভালো চোখে দেখেনি। সেই কারণেই তাকে আমাদের মাঝ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
আলোচনায় রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদী ভারত বাংলাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি—সব দিক থেকে টানা ৫০ থেকে ১০০ বছরের পরিকল্পনা নিয়েছিল, যার খেসারত আমাদের যুগে যুগে দিতে হচ্ছে। তারা তাদের মতো করে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাজাতে চেয়েছিল। কিন্তু ওসমান হাদি ছিলেন মেধাবী এবং ভারতের অপতৎপরতা বোঝার জন্য শ্রেষ্ঠ একজন ব্যক্তি, যিনি এসবের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। এ কারণেই তিনি আধিপত্যবাদের দ্বারা হত্যার শিকার হয়ে আমাদের মাঝ থেকে চলে গিয়েছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. মো: সালেহ হাসান নকিব বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের মাঝে হাদি রয়েছে। যারা হাদিভক্ত ছিল, তাদের বুঝতে হবে হাদি কী চেয়েছিল। শুধুমাত্র প্রোফাইলে হাদির ছবি লাগালেই হাদিভক্ত হওয়া যায় না। আমি মনে করি হাদি যা চেয়েছিলেন, তা আমাদের সংকীর্ণ মন নিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। হাদিকে বুঝতে হলে বুঝতে হবে হাদির উদ্দেশ্য বা প্রত্যাশা কী ছিল।’
সেমিনারে উপস্থাপক হিসেবে রাকসুর সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক ভিসি ড. সালেহ হাসান নকিব, বিশেষ অতিথি হিসেবে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ড. আমিরুল ইসলাম কনক, সভাপতি হিসেবে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দসহ অন্যান্য আলোচকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



