ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনে ১২টি দলের ৩৪জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এরমধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র একজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১০ জন, জাতীয় পার্টির ৬ জন, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি-সিপিবি’র দুইজন, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি-বিএসপি’র তিনজন, গণফেরামের একজন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি-বিএলপি’র একজন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) দুইজন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবিপার্টি) একজন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) একজন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির একজন, গণসংহতি আন্দোলনের তিনজন, গণঅধিকার পরিষদের একজন ও স্বতন্ত্র দুইজন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসনে সংগৃহীত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট অর্জন করতে না পারলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে অনুযায়ী প্রাপ্ত ফলাফলে এসব প্রার্থী নির্ধারিত সীমার নিচে ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত হারিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে বিশ্লেষনে দেখা যায়, ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জাহিদুল ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২২ হাজার ১৯৫ ভোট পেয়েও জামানত হারিয়েছেন। ওই আসনে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ২,০১৬৮৭ ভোট। আর সবচেয়ে কম কাস্তে মার্কায় ১৭৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউিনিষ্ট পার্টির (সিপিবি) আজহারুল ইসলাম।
ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনে সবচেয়ে বেশি সাতজন জামানত হারিয়েছেন। ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া এবং ময়মনসিংহ-৮ ঈশ্বরগঞ্জ আসনে একজন করে জামানত হারিয়েছেন। ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া আসনে ৫জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মধ্যে হাড্ডহাড্ডি লড়াই হলেও ইসলামী আন্দোলনের মো: নূরে আলম সিদ্দিকী হাতপাখা প্রতীকে মাত্র ১,৯৬৭ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে চারজন প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ৪৯,৪৭৬ থেকে ৭৭,৩২৫ ভোট।
ময়মনসিংহ-৮ ঈশ্বরগঞ্জ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য দুইবারের সাবেক এমপি ফকরুল ইমাম লাঙ্গল মাত্র ১,৭৬১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ময়মনসিংহ-১ হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে চারজনই জামানত হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: জিল্লুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ৩,১২৫ ভোট, বাংলাদেশের লেবার পার্টির (বিএলপি) মুহাম্মদ রাশেদুল হক আনারস প্রতীকে ২৭৪ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো: আ: রাজ্জাক কাঁচি প্রতীকে ২২৪ ভোট এবং বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির (সিপিবি) আজহারুল ইসলাম কাস্তে প্রতীকে সর্বনিম্ন ১৭৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-২ ফুলপুর ও তারাকান্দ আসনেও সাতজন প্রার্থীর মধ্যে চারজনই জামানত হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গোলাম মাওলা ভূইয়া হাতপাখা প্রতীকে ৩,৮৫৭ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি’র মো: জুলহাস উদ্দিন শেখ ১,০৭১ ভোট, জাতীয় পার্টির মো: এমদাদুল হক খান লাঙ্গল প্রতীকে ৭২৫ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক কলস প্রতীকে ৪৯৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: শরিফুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ২,৭৪৫ ভোট ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) এ কে এম আরিফুল ইসলাম কাঁচি প্রতীকে ৩৫৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে সাতজনই জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছাড়া সবারই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: নাসির উদ্দিন হাতপাখা প্রতীকে সবোর্চ্চ ৮,৭০১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
এছাড়া জাতীয় পার্টির আবু মো: মুসা সরকার লাঙ্গল প্রতীকে ৩,৮৪৫ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির (সিপিবি) এমদাদুল হক মিল্লাত ১,৩৯৭ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি’র মো: লিয়াকত আলী একতারা প্রতীকে ৮৯২ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) শেখর কুমার রায় কাঁচি প্রতীকে ৭৪০ ভোট, গণসংহতি আন্দোলনের মোস্তাফিজুর রহমান মাথাল প্রতীকে ৪৬৭ ভোট এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির(এনপিপি) মো: হাফিজুর রহমান আম প্রতীকে ৩৭৩ ভোট পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ময়মনসিংহ-৫ মুক্তাগাছা আসনে ৫জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩,৬৪৬ ভোট, গণসংহতি আন্দোলনের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম কাঁচি প্রতীকে ৬১৫ ভোট এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবিপার্টির মো: রফিকুল ইসলাম ৩৪৮ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া আসনে ৫জন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: নূরে আলম সিদ্দিকী হাতপাখা প্রতীকে মাত্র ১,৯৬৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনে ৬জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই জামানত হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে ৪,০৫৮ ভোট, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: জয়নাল আবদীন ১,০৪৪ ভোট এবং জাতীয় পার্টির মো: জহিরুল ইসলাম ৫৭৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৮ ঈশ্বরগঞ্জ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য দুইবারের সাবেক এমপি ফকরুল ইমাম লাঙ্গল মাত্র ১,৭৬১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই জামানত হারিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: সাইদুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ৫,৫৯৫ ভোট, জাতীয় পার্টির হাসমত মাহমুদ লাঙ্গল প্রতীকে ৭৯৮ ভোট এবং গণফেরামের মো: লতিফুল বারী হামিম উদীয়মান সূর্য প্রতীকে ২৫২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে ৯জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাবিবুল্লাহ বেলালী হাতপাখা প্রতীকে ২,৫৩৪ ভোট, জাতীয় পার্টির মো: আল আমিন সোহান লাঙ্গল প্রতীকে ৯৪৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: মতিউর রহমান ফুটবল প্রতীকে ৩৮৬ ভোট, গণসংহতি আন্দোলনের এ কে এম শামসুল আলম মাথাল প্রতীকে ৩৬৪ ভোট, লিভারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদ মোরশেদ ছাতা প্রতীকে ৩২২ ভোট এবং বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি-সিপিবি’র মো: সাইফুস সালেহীন কাস্তে প্রতীকে ২৯৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই জামানত হারিয়েছেন। এরমধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি’র জাহিদুল ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২২ হাজার ১৯৫ ভোট পেয়েও জামানত হারিয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: মোস্তফা কামাল হাতপাখা প্রতীকে ১,৮৫৫ ভোট ও গণ অধিকার পরিষদের আনোয়ারুল ইসলাম ট্রাক প্রতীকে ৩৯১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।



