ময়মনসিংহে ৩২ টন সার মজুদ, বিক্রেতার কারাদণ্ড ও জরিমানা

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
ভ্রাম্যমাণ আদালত
ভ্রাম্যমাণ আদালত |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সার মজুদের দায়ে এক ব্যবসায়ীকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে অপর এক সার বিক্রেতাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে তিনটি গুদাম থেকে ৬৩৬ বস্তা ইউরিয়া, ডিএপি ও এমওপি সার জব্দ করা হয়। যার পরিমাণ প্রায় ৩১ দশমিক আট টন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা বাজারে অভিযান চালানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রসিকিউশন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান। ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।

এদিকে একই দিনে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনিলক্ষিয়া এলাকায় খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে অনিয়মের দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পৃথক এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ব্যবসায়ী নূর-এ-আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন তিনটি গুদামে বিপুল পরিমাণ সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে ইউরিয়া ৩৯১ বস্তা, ডিএপি ১৬০ বস্তা ও এমওপি ৮৫ বস্তা। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি হিসেবে মোট ৬৩৬ বস্তায় প্রায় ৩১ দশমিক ৮ টন সার মজুদ ছিল।

অভিযুক্ত নূর-এ-আলমের খুচরা সার বিক্রির বৈধ লাইসেন্স থাকলেও তার প্রতিষ্ঠানে সার বিক্রির কোনো ক্যাশ মেমো পাওয়া যায়নি। একই সাথে মজুদের হিসাব সংবলিত রেজিস্টারও সংরক্ষণ করা হয়নি। এ ছাড়া অভিযানের সময় সার কেনার বৈধ রশিদ বা ভাউচারও তিনি দেখাতে ব্যর্থ হন।

এসব অনিয়মের দায়ে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ ঘটনাস্থলেই আদায় করা হয়। পরে তাকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

একই অভিযানে অপর ব্যবসায়ী শ্যামল চন্দ্র সাহাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, নূর-এ-আলমের দোকানে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছিল। অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অভিযানে জব্দ করা সার স্থানীয় বিসিআইসি সার ডিলার শামসুল হকের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। এসব সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সারের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে সার মজুদ কিংবা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অন্যদিকে ২৩ আগস্ট ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনিলক্ষিয়া এলাকায় ‘শাহরিয়ার এগ্রো অ্যান্ড ফিড প্রোডাক্টস’ কারখানায় অভিযান চালানো হয়। খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। পরে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৯ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু: সাইফুল্লাহিল গালিবের নেতৃত্বে ওই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রসিকিউশন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো: আতিকুর রহমান।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে সার মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।