শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি

বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

‘দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃষিঋণ মওকুফসহ নানা সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যাতে কৃষকরা উৎপাদনে উৎসাহ পান। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সরকার চায় কৃষক টিকে থাকুক, উৎপাদন বাড়ুক, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হোক।’

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Sripur
কথা বলছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি
কথা বলছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি |নয়া দিগন্ত

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘খালে বর্জ্য ফেলা, প্রভাবশালীদের বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নগর-গ্রাম উভয় এলাকাতেই জনদুর্ভোগ বাড়ছে।’

গাজীপুরের শ্রীপুরে খাল খনন কর্মসূচিকে ‘বিপ্লবী উদ্যোগ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে, মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরবে।’

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে শ্রীপুর পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা চৌক্কার খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার খাল খনন ও দখলমুক্ত করার কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নিচ্ছে।’

দীর্ঘদিন অবহেলা ও দখলের কারণে দেশের বহু খাল অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার পরিকল্পিতভাবে এই সঙ্কট থেকে দেশকে বের করে আনতে চায়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষকদের স্বার্থে খাল খননের যে দর্শন ও উদ্যোগ চালু করেছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করেই সরকার নতুন করে কর্মসূচি শুরু করেছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সরকার গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হয়েছে।’ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কৃষকদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃষিঋণ মওকুফসহ নানা সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যাতে কৃষকরা উৎপাদনে উৎসাহ পান। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সরকার চায় কৃষক টিকে থাকুক, উৎপাদন বাড়ুক, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হোক। সবাইকে চাকরি দেয়া সম্ভব না হলেও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করা সরকারের অগ্রাধিকার।’ প্রথম ১৮০ দিনেই তার অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে বলে তিনি দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব এবং সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী। এ সময় বক্তব্য দেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

পরে গাজীপুর মহানগরের গাছাখাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘গাছা খালসহ দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকা সব খাল পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে এবং খালের জমি দখলমুক্ত করা হবে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জনগণের সরকার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো খাল বা নদীর জমি দখলের সুযোগ দেয়া হবে না। দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।’

গাছাখাল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: আলম হোসেন, জিসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খাল খনন ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শ্রীপুর ও গাজীপুর অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশগত ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।