জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য অধ্যাপিকা মাহফুজা সিদ্দিকা হান্নান এমপি বলেছেন, ‘ছোট্ট শিশু রামিসার নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ।’
শনিবার (২৩ মে) সকাল ১১টায় সিলেট নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সিলেট মহানগর মহিলা জামায়াত আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাহফুজা সিদ্দিকা হান্নান বলেন, ‘শুধু ঢাকার রামিসা নয়, সিলেটের ছোট্ট শিশু ফাহিমা থেকে শুরু করে নারী ও শিশুদের প্রতি একের পর এক নৃশংসতায় দেশের আকাশ বাতাস ক্রমশই ভারী হয়ে উঠছে। আমরা প্রতিবাদের ভাষাটুকু হারিয়ে ফেলেছি। আজ পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতির বৃত্ত থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় জনগণ আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রামিসার প্রতি নৃশংসতার ব্যাপারে খুনি সাক্ষ্য দিয়েছেন। সুতরাং এটি নিয়ে আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এই রিপোর্ট ও সেই রিপোর্টের নামে সময় বিলম্বের সুযোগ নেই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রামিসার ঘটনা ঢাকায় ঘটেছে তাই সর্বত্র তোলপাড় হচ্ছে। কিন্তু দেশের আনাচে-কানাচে শত শত রামিসা এমন নৃশংসতার শিকার হচ্ছে, এর সঠিক হিসাব কারো কাছে নেই। এভাবে কোনো সমাজ ও রাষ্ট্র চলতে পারে না। এর বিরুদ্ধে নারীদেরকে সোচ্চার হতে হবে।’
মাহফুজা সিদ্দিকা বলেন, ‘দেশব্যাপী খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা আর কোনো রামিসা, ফাহিমার এমন করুণ পরিণতি দেখতে চাই না।’
কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় শিশু রামিসা ও সিলেটে ফাহিমাকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদে ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিশাল মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক নারী ও ছাত্রীরা অংশ নেন।
সিলেট মহানগর জামায়াতের মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য জাহানারা বেগমের সভাপতিত্বে ও কর্মপরিষদ সদস্য জাকিয়া নুরী চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- মহিলা জামায়াতের সিলেট অঞ্চল পরিচালক শাহিমা খানম হেপি, শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক নাসিমা আক্তার বিউটি, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিভাগের অধ্যাপিকা ডা: রাবেয়া বেগম, শ্রমিক নেত্রী সৈয়দা শিরিন বেগম ও ছোট্ট শিশু সাবরিয়া নুরাইদা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা দেখেছি একটি ধর্ষণ ও হত্যার বিচার করতে ১৭ বছর লাগে। এমনকি বিচারের রায় ঘোষণার পরও শাস্তি কার্যকর করতে বছরের পর বছর চলে যায়। আর অপরাধীরা জেলে বসে রাষ্ট্রের টাকার খাবার খেয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। অথচ খুনির নগ্ন থাবায় ভিক্টিমের দুনিয়া শেষ করে দেয়া হয়েছে। এভাবে চলতে দেয়া যায় না। ঘরে-বাইরে সর্বত্র শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মাদক ও পর্নোগ্রাফি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ রাষ্ট্রকে নিতে হবে। অন্যথায় জনগণের ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেলে মানুষ আইন হাতে তুলে নিয়ে অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করবে। এতে বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।



